ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রি নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। এই ডামাডোলের মধ্যে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। তাতে করে ফিফার অনেক টুর্নামেন্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিশ্বকাপের মালিকানা কাঠামো নিয়ে ফিফা ও উয়েফার এই বিরোধ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপ বিক্রি করলে ইউরোপের ৫৫ দেশ ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট বর্জন করবে বলে গতকাল সর্বসম্মতিক্রমে উয়েফা এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তাতে করে ফিফার বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টে এই ৫৫ দলকে দেখা যাবে না।
উয়েফা যদি ফিফাকে বয়কট করে, সেক্ষেত্রে সবার আগে এই টুর্নামেন্টের প্রভাব পড়তে পারে কদিন পরে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের ওপর। আয়োজক পোল্যান্ডের পাশাপাশি স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালের খেলার কথা রয়েছে ইউরোপের এই ছয় দলের। ৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে ফিফার এই ইভেন্ট। সূচি অনুযায়ী অক্টোবরে হতে যাচ্ছে নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্লে-অফ। সেখানে খেলার কথা ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের। নারীদের টুর্নামেন্টে রয়েছে মরক্কোয় হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপেও পড়তে উয়েফা-ফিফার দ্বন্দ্বের প্রভাব। যদিও এই টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ছেলেদের টুর্নামেন্টও উয়েফা-ফিফার দ্বন্দ্বের ব্যতিক্রম নয়। এ বছরের নভেম্বরে কাতারে হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। ইউরোপ অঞ্চল থেকে বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, স্পেন, ফ্রান্স, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, মন্টেনেগ্রো, রোমানিয়া ও সার্বিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। উয়েফা-ফিফার দ্বন্দ্ব দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকিতে পড়বে ফিফার বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট। ব্রাজিলে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপ, ২০৩০ বিশ্বকাপ ফুটবল এবং আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান মিলিয়ে ২০২৭ অনূর্ধ্ব-২০ ছেলেদের বিশ্বকাপ।
এমনকি ফিফার আওতাধীন ফুটসাল ও বিচ সকারের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও উয়েফা-ফিফার দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি ২০২৯ ক্লাব বিশ্বকাপও এর বাইরে নয়। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এক বিবৃতিতে বলেন, নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, ‘কিছু জিনিস আছে, যা বিক্রির জন্য নয়। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের—এটি সবসময়ই ফুটবলের থাকবে। আর যতদিন ইউরোপের কণ্ঠস্বর থাকবে, ততদিন এটি কখনোই বিক্রির জন্য তোলা হবে না।’
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে বলে গত মঙ্গলবার এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের (এফএফই) মাধ্যমে হতে যাওয়া এটার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ইকুইটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ বছরের শেষে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ডলার (৪৯০৬৭ কোটি টাকা) তোলা হবে। তাতে করেই ফুটবল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে শোরগোল উঠেছে। ফিফা গতকাল নিজেদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি খোলাসা করেছে। একই সঙ্গে ২০২৭ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত সময়কালে ফিফা ফরোয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ২ কোটি ডলার উন্নয়ন তহবিল পাবে বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ২৪৬ কোটি টাকা। এদিকে উয়েফার মতো কনক্যাকাফও ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।