জার্মান ফুটবলে নতুন দিনের প্রত্যাশা জাগিয়েই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে পথচলা শুরু করছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের ডাগআউটে দাঁড়ানোর আগে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় সাবেক লিভারপুল কোচ জানিয়েছেন, জার্মানির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ‘নতুন কৌশলের’ আশ্রয় নেবেন।
আমস্টারডামে আজ স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ক্লপের জার্মানি অধ্যায়। ম্যাচটির আগে ভিডিও বার্তায় নিজেকে ‘দ্য নিউ ওয়ান’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ। লিভারপুলে যোগ দেওয়ার সময় নিজেকে ‘দ্য নরমাল ওয়ান’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। নতুন পরিচয়ের মধ্য দিয়ে যেন সেই সময়েরই স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন ক্লপ। বললেন, ‘আমাদের নতুন কৌশলটি যেন মাঠের খেলায় ফুটে ওঠে, সে জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা করব। আমি শুরু থেকেই এর প্রতিফলন দেখতে চাই। খেলা কিছুটা আক্রমণাত্মক বা অগোছালো হতে পারে, তবে আমার তা মেনে নিতে আপত্তি নেই। কিন্তু মাঠে প্রাণচাঞ্চল্য থাকতে হবে।’
নেদারল্যান্ডসের পর ২৭ সেপ্টেম্বর অগসবুর্গে গ্রিসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অভিষেক হবে ক্লপের। চার দিন পর সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ। এরপর গ্রিসের বিপক্ষে থেসালোনিকিতে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম অভিজ্ঞতার সফর।
জার্মানির দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্লপ। ৪৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন তিনি, যেখানে জাতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায় ১৬ জন। সেই দলকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হবে ম্যাচের জন্য। সমর্থকদের প্রিয় ডেনিজ উনদাভকেও দলে রাখেননি তিনি। নতুন ডাক পাওয়া ফ্রেইবুর্গের রাইটব্যাক ফিলিপ ট্রয় ক্লপের নেতৃত্বে খেলতে না পারলেও কোচকে নিয়ে সতীর্থদের উচ্ছ্বাসের কথা বলেছেন, ‘তাঁর জন্য আগুনের মধ্য দিয়েও হেঁটে যেতে ইচ্ছা করে। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ।’
আরেক নতুন মুখ আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের স্ট্রাইকার ইউনেস এবনুতালিবকে দলে নেওয়ার ব্যাপারটিও ছিল আলোচনায়। মরক্কোর হয়েও খেলার সুযোগ ছিল তাঁর। তবে জার্মানিকেই বেছে নিয়েছেন ফ্রাঙ্কফুর্টে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড। কোচ ক্লপে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন তিনিও, ‘ক্লপ ডাকলে যেতেই হয়। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ এবং তাঁর মধ্যে দারুণ ইতিবাচক শক্তি আছে।’
ক্লপের সামনে অবশ্য কাজটা সহজ নয়। ২০১৬ সালের পর বিশ্বকাপ ও ইউরোয় নকআউট পর্বে জার্মানি জিততে পেরেছে মাত্র এক ম্যাচ। অথচ এই দলই একসময় বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে নিয়মিত জায়গা করে নিত। পতনের মুখে থাকা দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর অভিজ্ঞতা ক্লপের আছে বলেই তাঁর ওপর ভরসা করেছে জার্মানি। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের দায়িত্ব নিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে দুটি লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি, খেলেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। লিভারপুলকেও তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তুলে একবার শিরোপা জিতিয়েছেন। তাঁর অধীনেই ৩০ বছর পর ইংলিশ লিগ শিরোপা ফিরে পায় লিভারপুল।
এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জার্মান ফুটবলকে এক সুতোয় বাঁধতে চাইছেন ক্লপ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই সাবেক জার্মান খেলোয়াড়দের সংগঠন ডিএফবি অল-স্টার্সের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। স্কোয়াড ঘোষণার সময়, ক্লপ জার্মান পতাকার রঙে তৈরি স্পনসরদের হ্যাট উপহার দেন, যেখানে বার্তা লেখা ছিল—‘৮ কোটি ৩০ লাখের একজন’। জার্মানির সাবেক সব খেলোয়াড়ের মধ্যেই তিনি এই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন, ‘আমরা সবাই মিলেই আমাদের জাতীয় দল।’
ডাগআউটে দাঁড়ানোর আগেই যা করছেন ক্লপ, তাতে মুগ্ধ জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার লোথার ম্যাথাউস। বর্তমানে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করা ম্যাথাউস স্কাই জার্মানির কলামে লিখেছেন, ক্লপ মূল দায়িত্বে আসায় সবকিছু আরও ভালো হবে। সেটিই চাওয়া জার্মানদেরও।