উসমান দেম্বেলের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধের খেলা শেষে চালকের আসনে আছে ফ্রান্স। বোস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুর একাদশে আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আলেক্সান্দার সোরলোথের মতো তারকাদের বেঞ্চে রেখে বড় চমক দিয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান কোচ স্টালে সোলবাকেন। তবে প্রথমার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ফরাসিরা।
খেলা শুরুর মাত্র ২৩ সেকেন্ডের মাথায় কিলিয়ান এমবাপের একটি জোরাল শট দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চনার শিকার হয় ফ্রান্স। সপ্তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি নরওয়ের। ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন উসমান দেম্বেলে। চলতি টুর্নামেন্টে এটি এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোল। ১৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে নরওয়ে; ফ্রেডরিক আউরেস্নেসের লং বল বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জর্গেন স্ট্র্যান্ড লার্সেন শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর তিন মিনিট পর এমবাপের আরও একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলকিপার।
ম্যাচের ২০ মিনিটে ফ্রান্সের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে এমবাপের থ্রু পাস ধরে বক্সের কয়েক গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের গতিময় শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। তবে পরের মিনিটেই (২১ মিনিটে) ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে নরওয়ে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে জাল কাঁপান দলটির মিডফিল্ডার থেলোনিয়াস আসগার্ড। প্রথম ২২ মিনিটে দুই দল মিলে মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টিই ছিল অন-টার্গেট। খেলার এই উত্তেজনার মাঝেই নতুন নিয়মের হাইড্রেশন ব্রেক দেওয়া হলেও ম্যাচের গতি কমেনি। ৩২ মিনিটে বক্সে বল পেয়ে নরওয়ের তিনজন ডিফেন্ডারকে ডিব্রিংয়ে বোকা বানিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিনিটের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়লেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রোবস্ট মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আজ বোস্টনের মাঠে ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে সেই ৭২ বছরের পুরোনো কীর্তিকে নতুন করে সামনে আনলেন দেম্বেলে।