নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। তারকা ফরোয়ার্ডকে শুরুর একাদশে নামানো হবে কি না, সেটা পরিষ্কার করেননি তিনি। তবে ব্রাজিল ম্যাচে নরওয়ের আক্রমণভাগের পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়েই থাকছেন নেইমার।
ভুল কিছু শোনেননি। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রাতে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামবে নরওয়ে। সে ম্যাচে নরওয়েজিয়ানদের জার্সিতে দেখা যাবে নেইমারকে। তবে সেটা ৩৪ বছর বয়সী সান্তোস তারকা নয়, বলা হচ্ছে আন্তোনিও নুসার কথা। নরওয়ের এই উইঙ্গারও নেইমার নামে বেশ পরিচিতি।
ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ প্রতিভাদের একজন হিসেবে মনে করা হয় নুসাকে। দুর্দান্ত ড্রিবলিং, বিস্ফোরক গতি, সৃজনশীলতা এবং একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অসাধারণ দক্ষতার কারণে তাঁকে ‘নরওয়ের নেইমার’ নামে ডাকা হয়।
২০০৫ সালের ১৭ এপ্রিল নরওয়ের ল্যাংহুসে জন্ম নেওয়া নুসার মা নরওয়েজিয়ান এবং বাবা নাইজেরিয়ান। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। স্থানীয় পর্যায়ে খেলার পর স্টাবেকের একাডেমিতে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু হয় তাঁর। অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরে চলে আসেন নুসা।
২০২১ সালে বেলজিয়ামের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রুগাতে যোগ দেন নুসা। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন। ব্রুগার হয়ে ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের অভিষেক ম্যাচেই জালের দেখা পান। ২০২৪ সালে জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব আরবি লাইপজিগে যোগ দেন নুসা।
নুসা মূলত লেফঠ উইঙ্গার হলেও রাইট উইং এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গতির সঙ্গে নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ, ক্ষিপ্র ড্রিবলিং, এক-এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার ক্ষমতা এবং সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা। একই সঙ্গে গোল করতেও তিনি সমান কার্যকর। আক্রমণভাগে সাহসী ও দর্শনীয় ফুটবল তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৩ সালে নরওয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল শুরু করেন নুসা। জাতীয় দায়িত্বে এরই মধ্যে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন; এখন পর্যন্ত ৯ গোল করে আরলিং হালান্ড ও মার্টিন ওদেগার্দের মতো তারকাদের পাশে খেলেও নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন নুসা। বিশ্বকাপের সেরা ৩২-এর ম্যাচে আইভোরি কোস্টের বিপক্ষে নজরকাড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
নেইমারের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন নুসা। ছোটবেলা থেকেই নেইমারের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত তিনি। ২০২১ সালে নেইমারকে নিয়ে নুসা বলেছিলেন, ‘নেইমার আমার আদর্শ। আমি তাঁর মতো ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে চাই।’ বলা বাহুল্য, নুসার এই ইচ্ছা পূরণ হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা।