‘আই অ্যাম ব্যাক’—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফিরে এসেছেন। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচে জোড়া গোল করার পর টেলিভিশন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রীতিমতো গর্জে ওঠেন রোনালদো। কদিন ধরে যাঁরা বলছিলেন, ‘পর্তুগালের সমস্যার নাম রোনালদো’, তাঁদের উদ্দেশেই ছিল সিআর সেভেনের এই কড়া বার্তা।
২০২৬ বিশ্বকাপে গোলের খাতা খুলতেই ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে করেছেন আরেকটি বিরল রেকর্ড। পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে একই সঙ্গে কনিষ্ঠতম (২০০৬ সালে ২১ বছর ১৩২ দিন বয়সে) এবং সবচেয়ে বয়স্ক (এখন ৪১ বছর ১৩৮ দিন) গোলদাতা এখন রোনালদোই।
ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য অর্জনের পরও আবেগ ছুঁয়ে যায় রোনালদোকে। একই সঙ্গে সমালোচকদের জন্যও ছিল তাঁর নিখুঁত জবাব। রোনালদোর হয়ে সবচেয়ে বড় জবাবটা বোধ হয় দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ ফুটবলার রিও ফার্ডিন্যান্ড, ‘সবাই একদম চুপ, রোনালদোর সিউউ...।’
রোনালদোর প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে খুশি ‘২০২৬ বিশ্বকাপ’! টুর্নামেন্টের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় সব মহাতারকাই জ্বলে উঠেছেন স্বমহিমায়। আর তাঁদের সৌজন্যে বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিদিনই ‘ব্লকবাস্টার শো’ দেখার সুযোগ মিলছে দর্শকদের। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, নরওয়ের আর্লিং হালান্ড, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বতারকারা দারুণ ছন্দে। অবশেষে রোনালদোর ‘এন্ট্রি’ও হয়েছে দুর্দান্ত। নিজের আগমন জানান দিয়েছেন সহজাত তেজোদীপ্ত মুগ্ধতা ছড়ানো ফুটবলে।
উজবেকিস্তানের আবদুকোদির খুসানোভ গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে না দিলে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারত রোনালদোর।
দ্বিতীয়ার্ধে সতীর্থরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও অধিনায়কের বহু কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিকটি আর হয়নি। এখনেো পর্যন্ত বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ১১টি ভিন্ন আসরে গোল করেছেন রোনালদো, ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে পাঁচটি বেশি।
ম্যাচ শেষে ‘আমি ফিরে এসেছি’র ব্যাখ্যা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো বলেছেন, ‘শুধু যেন তারা (সমালোচকেরা) ভুলে না যায়—২৩ বছর ধরে আমি এভাবেই করে আসছি।’ গত এক সপ্তাহ তাঁর কী কঠিন গেছে, সেটিও তুলে ধরেছেন রোনালদো, ‘এই সপ্তাহে আমাদের অনেক বাধা পেরোতে হয়েছে। কিন্তু দল খুব ভালো কাজ করেছে, আমরা অনেক উন্নতি করেছি। এটি ছিল কঠিন একটি সপ্তাহ। বলে লাথি না মেরে কাটানো এক অন্ধকার সপ্তাহ! সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা ফিরে এসেছি।’
রোনালদোর সামনে সাংবাদিকেরা তুলেছেন ছন্দে থাকা মেসির প্রসঙ্গও। ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রসঙ্গ আসতেই বিরক্ত হয়ে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের জবাব, ‘অন্যরা কী করছে, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্রও মাথাব্যথা নেই’, ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে বলতে বলতে গেলেন, ‘এমবাপ্পেও তো গোল করেছে।’
রোনালদো ফিরে আসায় জমে উঠেছে গোল্ডেন বুট কিংবা গোল্ডেন বলের লড়াইও। ২ ম্যাচ ৫ গোল করে সবার ওপরে মেসি। সমান ম্যাচে ৪ গোল করে মেসিকে ধাওয়া করছেন এমবাপ্পে ও হালান্ড। ভিনি জুনিয়র স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে মেসি-এমবাপ্পেকে ধরে ফেলার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। সুপারস্টাররা যখন দ্যুতি ছড়াচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে, এখনো অনেক মুগ্ধতাজাগানিয়া আর রোমাঞ্চকর ফুটবল অপেক্ষা রেখেছে মার্কিন মুলুকের এই বিশ্বকাপ।
তারকার এ হাটে নিশ্চিত একজনকে খুব মিস করছিলেন ব্রাজিল সমর্থকেরা। নামটা বলার আগেই বুঝে গেছেন, তিনি নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যদি খেলার সুযোগ পান, কেমন শুরু করলেন তাঁর বিশ্বকাপ অভিযান, সে তো দেখেছেনই।