পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ২৭ ও ২৮ মে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদ উদযাপন করবেন। ঈদ উপলক্ষে এবার সেনেগালের কারাবন্দী ফুটবলপাগল ভক্তদের মুক্ত করে দিল মরক্কো।
মরক্কোর রাজদরবার গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘মানবিক কারণে; রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ সেনেগালের ফুটবল সমর্থকদের ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আজ সেনেগালের জ তাদের ক্ষমা প্রদান করেন। কারাবন্দী থেকে মুক্ত হবার পর ভক্ত-সমর্থকদের বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা গেছে। আজ ডাকার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেনেগালের রাষ্ট্রপতি বাসিরো দিমায়ে ফায়ে সমর্থকদের স্বাগত জানাতে ট্র্যাকস্যুট পরে গিয়েছেন। ফায়ে বলেন, ‘তাদের আবার সেনেগালের মাটিতে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।’
মরক্কো কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেনেগালের রাষ্ট্রপতি বাসিরো দিমায়ে ফায়ে। যদিও ফাইনালটি নিয়ে এখন সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়া আদালতে মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এ বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আফকন ফাইনালে বিশৃঙ্খলার কারণেই মূলত সেনেগালের ভক্ত-সমর্থকদের গ্রেপ্তার করেছিল মরক্কো। চার মাসের বন্দিদশা থেকে অবশেষে মুক্তি পেলেন ফুটবলপ্রেমীরা। ফুটবল সমর্থকদের মুক্তির পর মরক্কোকে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বলে খোঁচা দেন ফায়ে।
রাবাতে এ বছরের ১৮ জানুয়ারি আফকন ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল সেনেগাল-মরক্কো। ম্যাচটি গোলশূন্য থাকা অবস্থায়, দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মরক্কোকে একটি পেনাল্টি দেওয়া হয় — ঠিক তার আগেই সেনেগালের একটি গোল বাতিল করা হয়েছিল। এরপর সেনেগালের সমর্থকেরা মাঠে ঢুকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছিলেন। পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগাল দল মাঠ ছেড়ে চলে গেলে প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।
প্রথমে ১-০ গোলে জিতে আফকন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। কিন্তু আফ্রিকা ফুটবল ফেডারেশনের (কাফ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়। মরক্কোকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করে তাদেরকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। প্রথমে যে সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই দলটি হয়ে যায় রানার্সআপ। সেনেগালকে হারিয়ে মরক্কো দ্বিতীয়বারের মতো জেতে আফকন শিরোপা।