কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া এখন উৎসবের নগরী। উৎসবটা বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নয়; বরং আফ্রিকার দলটি বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে রূপকথার মতো যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তাতে মুগ্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরেও তাদের লড়াকু মানসিকতা দেখে অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারদেরও রীতিমতো অবাক করে দিয়েছে।
মায়ামিতে গতকাল বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে কেপ ভার্দে হেরেছে ৩-২ গোলে। তা-ও ম্যাচটা ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত যে ৩০ মিনিট খেলা হয়েছে, সেখানেও হাল ছাড়েনি ‘ব্লু শার্কসরা’। আজ ভোজিনিয়া, সিদনি কাবরাল, দেরয় দুয়ার্তেরা দেশে ফেরার পর প্রাইয়ার নেলসন ম্যান্ডেলা বিমানবন্দর নীলে নীল হয়ে যায়। শুধু কি বিমানবন্দর! শহরগুলোতে কেপ ভার্দের জার্সি পরে ফুটবল-সমর্থকেরা হাজির হয়েছেন বীরদের বরণ করতে— ঢাকঢোল বাজিয়ে, নেচে ও স্লোগানে স্লোগানে।
এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের গোলপোস্টের সামনে ‘চীনের মহাপ্রাচীর’ বনে গিয়েছিলেন ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ভেদ করে গোল করে লিওনেল মেসিরও ঘাম ছুটে গেছে। দেশে ফিরে আজ বিবিসিকে নিজের নামের লেখা একটি টি-শার্ট পরে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দেশে ভোজিনিয়া বলেন, ‘নিজেদের মানুষের কাছে ফিরে আসতে পারা আমাদের জন্য সত্যিই একটি অসাধারণ মুহূর্ত। আমরা আরও বড় কিছু অর্জন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরবর্তী পর্বে যেতে পারিনি। এখন আমরা মুহূর্তটি উপভোগ করছি এবং আমাদের মানুষের সঙ্গে উদ্যাপন করছি।’
২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী কেপ ভার্দের জনসংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার। আফ্রিকা মহাদেশের দেশটির এবার বিশ্বকাপে খেলাটাই রীতিমতো চমক। আর স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব—গ্রুপপর্বে এই তিন দলকে রুখে দিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে শেষ বত্রিশে ওঠে কেপ ভার্দে। যার মধ্যে স্পেন-সৌদির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে কেপ ভার্দে। আর উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
গতকাল মায়ামিতে আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও দুই দফা পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে। যতটা সহজ মনে হয়েছিল, ততটা সহজে লিওনেল স্কালোনির দল জিততে পারেনি। তবে মেসি-স্কালোনিও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কেপ ভার্দের। এমনকি আফ্রিকান দলটির ফুটবলারদের সঙ্গে মেসি ছবিও তোলেন। প্রথমবার খেলতে এসে নকআউট পর্বে ওঠা কেপ ভার্দের ফুটবলারদের ভূয়সী প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলটির কোচ বুবিস্তা।