প্রথমে অপেক্ষা, তারপর আধিপত্য, শেষে উদ্যাপন। স্পেনের জয়ের গল্পটা এমনই। গোল পেতে কিছুটা সময় লেগেছে, কিন্তু একবার গোলের দেখা পাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া করেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেন। জোড়া গোল করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য অস্ট্রিয়াই কিছুটা আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। কিন্তু সেই দৃশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ধীরে ধীরে বলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় স্পেন। পেদ্রি, রদ্রি ও দানি ওলমোর ছোট ছোট পাসে মাঝমাঠ দখলে চলে আসে।
২৯ মিনিটে কর্নার থেকে কুকুরেয়া বল জালে জড়ালেও ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল হয়। সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্পেনের আক্রমণের ধার থামেনি।
অবশেষে ৩৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা কুকুরেয়ার নিচু ক্রস এক ছোঁয়ায় জালে পাঠান মিকেল ওইয়ারসাবাল। বিরতির আগেই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। আলেক্স বায়েনার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে লামিনে ইয়ামালের শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আলেক্সান্ডার শ্লাগার। প্রথমার্ধ শেষে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে থাকাটাই ছিল অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে ‘বড় প্রাপ্তি’।
বিরতির পর স্পেন আরও নির্ভুল হয়ে ওঠে। বলের দখল নিজেদের কাছেই রেখে প্রতিপক্ষকে ছুটিয়েছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। এই সময়েই বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে টানা সর্বোচ্চ সময় গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েন গোলরক্ষক উনাই সিমন, ভেঙে দেন ইকার কাসিয়াসের রেকর্ড।
এরপর ৬৬ মিনিটে আবারও বাঁ প্রান্ত থেকেই জন্ম হয় দ্বিতীয় গোলের। বায়েনার দারুণ ক্রসে পেছন থেকে উঠে এসে জোরাল হেডে জাল কাঁপান পেদ্রো পোরো। স্পেনের জার্সিতে এটিই ছিল তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।
তবু স্পেনের ক্ষুধা মেটেনি। ৮৯ মিনিটে কুকুরেয়ার অসাধারণ থ্রু পাসে একা গোলরক্ষকের সামনে পৌঁছে যান ওইয়ারসাবাল। কোনো ভুল না করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। সেই গোলে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় চার, যা তাঁকে ২০১০ বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করা ডেভিড ভিয়ার পর এক আসরে চার গোল করা প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলারে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ১৫ ম্যাচে এটি ছিল ওইয়ারসাবালের ১৬তম গোল।
শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের দখল, সুযোগ সৃষ্টি, আক্রমণের বৈচিত্র্য ও রক্ষণ—সব বিভাগেই অস্ট্রিয়াকে ছাপিয়ে গেছে তারা। শিরোপাপ্রত্যাশীরা ক্রমেই হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর।