হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘আশরাফুল অনেক কিছু করেছেন, নতুন কোচের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ব্যাটিং কোচ হিসেবে এক বছরও টিকতে পারলেন না মোহাম্মদ আশরাফুল। ছবি: বিসিবি

মাঠের চেয়ে বরং মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়ে বেশি কথাবার্তা চলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। তাতে করে দলের পারফরম্যান্স অনেকটা আড়ালেই চলে যায়। মোহাম্মদ আশরাফুলের চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনা যেন সেটা আবার নতুন করে প্রমাণ করল। তবে কোচ বদল হলেও সেটা নিয়ে তেমন একটা চিন্তিত নন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

মিরপুরে আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। হোম সিরিজ শুরুর চার দিন আগে (২৪ অক্টোবর) আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন বিসিবির হাইপারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন। উইন্ডিজ সিরিজ শুরুর আগমুহূর্তে কোচ পরিবর্তন নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে আজ সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘আমি অবশ্যই প্রত্যেকটা কোচের সঙ্গে কাজ করাটা উপভোগ করেছি। আশরাফুল ভাই এক বছরের মতো ছিলেন। যতটুকু সময় কাজ করেছেন, ভালো কাজ করেছেন।’

আশরাফুল-শান্ত জুটি টেস্টে গত এক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে রাখার মতো অনেক মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আট টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচটিতে। দুটিতে হেরেছে এবং এক টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে শান্তর পাশাপাশি মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসের ব্যাট থেকেও এসেছে সেঞ্চুরি।

শান্তর মতে টেস্ট সিরিজের আগমুহূর্তে কোচ পরিবর্তন দলে তেমন একটা প্রভাব ফেলবে না। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অভিজ্ঞ ছিলেন (আশরাফুল)। অনেক কিছু শেয়ার করেছেন। উপভোগ করেছি। ব্যাটিং কোচের জায়গায় যিনি (সালাহ উদ্দীন) এসেছেন, তিনি কিছুদিন আগেও ড্রেসিংরুমেই ছিলেন। এখানে খুব বেশি একটা প্রভাব পড়বে না।’

২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেস্ট দলের ব্যাটিং কোচ হলেও আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়া হলো তাঁর চাকরির এক বছর ফুরোনোর আগেই। বর্তমানে সালাহ উদ্দীন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচ হলেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচিং সেটআপে একেবারে নতুন নন। এর আগে দলের সিনিয়র সহকারী কোচ ছিলেন তিনি। সিনিয়র সহকারী কোচ হলেও শান্ত-তানজিদ হাসান তামিমদের ব্যাটিংটাই দেখভাল করতেন সালাহ উদ্দীন। তাছাড়া ব্যাটিং টেকনিকে সমস্যায় পড়লে ব্যাটাররা বেশির ভাগ সময় সালাহ উদ্দীনের কাছে যান। ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই কোচকে অনেক ক্রিকেটার ‘গুরু’ মানেন।

আশরাফুল-সালাহ উদ্দীনের তুলনা করতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘তার (সালাহ উদ্দীন) সঙ্গে অতীতে অনেক কাজ করেছি। এই জায়গাটাতে আমি বলব না যে কোচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনো রকম সমস্যা হবে। এখন সালাহউদ্দীন স্যার আছেন। তিনি ভালো কাজ করছেন। অতীতেও করেছেন। আশরাফুল ভাইয়ের সঙ্গে যতটুকু কাজ করেছি, উপভোগ করেছি। আমি বিশ্বাস করি যতটুকু কাজ তিনি করেছেন, চেষ্টা করেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা এবং তাঁর যে কাজগুলো ছিল, তিনি ভালোভাবে করেছেন।’

ডারউইনে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর শান্ত ছুড়েছিলেন হুংকার। মেহেদী হাসান মিরাজ প্রবাসীদের সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ডেরায় টেস্টে হারিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জ্বলজ্বল করছে বাংলাদেশের। শান্তর মতে ডারউইন টেস্ট জয় ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘ডারউইন টেস্টের কথা যেটা বললেন, সেই ম্যাচ জেতার পর ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। তবে আগে থেকেই আমার মনে হয় যে ক্রিকেটারদের মধ্যে আগ্রহ অনেকটাই ছিল যে, এই সংস্করণে কীভাবে আমরা আরও ভালো করতে পারি। পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচ কখন আসবে, কখন আমরা খেলব—এই আগ্রহও ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেক বেড়েছে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পরই দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়াল দিতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত। ফাইনালে উঠতে এখন বাংলাদেশের সামনে প্রত্যেকটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তবে টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির ২৬ বছরে বাংলাদেশ সাদা পোশাকে একটা ম্যাচও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিততে পারেনি। এমনকি জয়ের চেয়ে হার অনেক বেশি। ১৬২ টেস্ট খেলে হেরেছে ১১৮টিতে। ড্র করেছে ২০ টেস্ট।

শান্তর মতে ২৬ বছরেও বাংলাদেশ টেস্টে অভিজ্ঞ দল হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘একটা জিনিস একটু মাথায় রাখতে হবে আমাদের যে এখনো সেরকম অভিজ্ঞ দল হয়নি। সত্যি কথা এটা। আমাদের এই টেস্ট সিরিজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই টেস্ট সিরিজটা কত ভালো করতে পারি, কীভাবে এই সিরিজটা জিততে পারি সেদিকেই ফোকাস করছি। পরের সিরিজ যখন আবার আসবে, তখন সেটা নিয়ে আমরা চিন্তা করব। যদিও সময় অনেক কম। তবে আমাদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই।’

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ৮ নভেম্বর হবে সিলেটে। দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে ৭৫ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। দুইয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৭২.২২ শতাংশ। তিনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ।

‘বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখনো খুশি না’

নতুন সাজের বরিশাল স্টেডিয়ামে আছে উচ্ছ্বাস, আছে ক্ষোভও

টাকা ছাড়া এ কেমন নিলাম করল বিসিবি

ভারতের ম্যাচের দিন আইপিএল নিলাম

বিপদে রাজশাহী

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা ‘প্রতারণার’ অভিযোগ

‘ফাইনাল খেলতে চায় বাংলাদেশ, এবার আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ’

প্রাণঘাতী পিচ নিয়ে কোহলি কী বলেছিলেন, মুখ খুললেন ডু প্লেসি

বাংলাদেশ কেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এত পছন্দের দল

মিরাজের দলে তাসকিন-লিটন-মুমিনুল, কাদের কত দাম