হাসান আলীর পাতা ফাঁদেই পা দিলেন লিটন দাস। পাকিস্তানি পেসারের করা অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে আপার কাট করেন। বল চলে যায় ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা সৌদ শাকিলের হাতে। ক্যাচ নিতে ভুল করেননি তিনি। টেস্টে ২০তম ফিফটি তুলে নেওয়ার পর ৬৯ রানে কাটা পড়েন লিটন।
ক্রিজে থিতু হওয়া লিটনের জন্য প্রথম ইনিংসের মতো এবারও সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু হাসানের বলে আউট হয়ে মাথা নিচু করে চুপচাপ মাঠ ছাড়লেন; সঙ্গী তখন রাজ্যের হতাশা। আরেকটু হিসেবি ব্যাটিং করলে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়তেন লিটন। সেটা না পারার আক্ষেপটা দীর্ঘ থাকার কথা উইকেটরক্ষক ব্যাটারের। তবে এই আক্ষেপের মাঝে একটি প্রাপ্তিও আছে তাঁর।
প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করে বাংলাদেশ। ১১৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর মূলত লিটনের সেঞ্চুরিতে ভর করে এই পুঁজি পায় স্বাগতিকেরা। নবম ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ১২৬ রানের লড়াকু, সাহসী এবং মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস। এবার ফিরলেন ৬৯ রান করে। দুই ইনিংস মিলিয়ে সিলেট টেস্টে লিটনের ব্যাট থেকে এল ১৯৫ রান।
৫৪ টেস্টের ক্যারিয়ারে দুই ইনিংস মিলিয়ে এটাই লিটনের সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ১৯৩ রান করেছিলেন। সে টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর অবদান ৫২ রান। এবার ছাড়িয়ে গেলেন চার বছর আগের সে ম্যাচকে।
লিটন ফিরলেও সিলেট টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ৩০০ ছাড়িয়েছে স্বাগতিকদের লিড। দিনের শুরুতেই ১৫ রান করে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ১২৩ রানের জুটি গড়েন লিটন।