ক্রিকেট তো শুধু দক্ষতারই খেলা নয়। মনস্তাত্বিক খেলাও বটে। আচরণবিধির শিকল পায়ে থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জিততে স্লেজিংয়ে তৈরি হয় অন্য রকম উত্তেজনা। এসব কথার লড়াইয়ে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার উদাহরণ কম। বরং বাংলাদেশকে কথার চাবুকে কাবু করার উদাহরণই বেশি। তবে আজ মোহাম্মদ রিজওয়ান-লিটন দাসের মধ্যে যা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ প্রমাণ করল জবাবটা তারাও দিতে জানে।
সিলেটে আজ দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে লিটন-রিজওয়ানের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ৭২তম ওভারের পঞ্চম বল যখন তাইজুল ইসলাম করতে যাবেন, তখন রিজওয়ান থেমে গেলেন। ইশারায় বোঝাতে চাইলেন সাইটস্ক্রিনে কিছু একটা হওয়ার কারণে রিজওয়ানের ব্যাটিংয়ে সমস্যা হচ্ছে। উইকেটরক্ষক লিটন দাস বেজায় বিরক্ত। রিজওয়ানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বারবার খেলা থামাচ্ছ কেন?প্রায়ই তুমি করো এটা।’ রিজওয়ান বলেন, ‘এটা কি তোমার কাজ?’ ম্যাচের পরিস্থিতি সামলাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে মাঠের আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকারকেও।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আজ পাকিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক। লিটন-রিজওয়ানের আলোচিত ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন এলে শফিক জানিয়েছেন, ঘটনার কিছুই তাঁর (শফিক) জানা নেই। সাংবাদিকদের পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘আমি জানি না আসলে কী ঘটেছে। তবে এ ধরনের ঘটনা টেস্টে নিয়মিত হয়। আমি মনে করি না যে গুরুতর কিছু হয়েছে। সামান্য কথাবার্তা হয়েছে।’
দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে পাকিস্তান। আগামীকাল শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ উইকেট আর পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান। ৩ উইকেট হাতে নিয়ে ১২১ রান তেমন একটা কঠিনও নয় পাকিস্তানের জন্য। সিলেট টেস্টের উইকেট এখনো ব্যাটারদের জন্য বধ্যভূমি হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে রিজওয়ান ৭৫ রানে ব্যাটিং করছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন সাজিদ খান (৮)।
সাজিদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেহেতু সেঞ্চুরি আছে এবং সিলেটে প্রথম ইনিংসে ২৮ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন, বাংলাদেশের কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকারই কথা। কাল শেষ দিনে প্রথম সেশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সফরকারীদের দ্রুত গুটিয়ে দেওয়াটাই শ্রেয় হবে স্বাগতিকদের জন্য। আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলেছেন, ‘পঞ্চম দিনে দলের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করা।’
শফিক অবশ্য আশা ছাড়ছেন না। আজ চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আশা আছে। আজ আমাদের ব্যাটিং ইউনিটের জুটি যদি দেখেন, আমরা সত্যিই আশাবাদী। আমাদের আর মাত্র ১২০-এর মতো রান (১২১ রান) দরকার। রিজওয়ান যেভাবে ব্যাটিং করছে এবং প্রথম ইনিংসে সাজিদ যেভাবে খেলেছে, তাতে আমরা সত্যিই আশাবাদী।’
শান মাসুদের (৭১) বিদায়ে পাকিস্তান পরিণত হয়েছে ৫ উইকেটে ১৬২ রান। মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পতন যেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকেরা আশায় বুক বাঁধছিলেন কখন শেষ হবে খেলা। কিন্তু টেস্ট খেলা যে এমনই। সেই খেলায় স্বাগতিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন সালমান-রিজওয়ান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তাঁরা (রিজওয়ান-সালমান) ১২৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েছেন। তাইজুল শেষ বিকেলে সালমান (৭১) ও হাসান আলীকে (০) দ্রুত ফেরালেও ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত পঞ্চম দিনেই গড়াচ্ছে।