ইশ্, আর কয়েকটা বল যদি খেলতে পারতাম! মেঘলা আবহাওয়ায় আলোক স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষে মাঠ ছাড়ার সময় মনে মনে এমন কিছুই কি ভাবছিলেন সাদমান ইসলাম? মুচকি হাসিতে তাঁর মাথা নাড়ানো দেখে সে আন্দাজ করাই যায়।
৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমানের জন্য এমন আক্ষেপ অমূলক নয়।
তিন অঙ্কের অপেক্ষা নিয়ে মাঠ ছাড়লেও মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা ভালোভাবেই পার করেছে বাংলাদেশ। ৩ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা স্কোরবোর্ডে তুলেছে ২১৩ রান।
প্রথম দিনের শেষের সঙ্গে অবশ্য শুরুর মিল পাওয়া যাবে না। মিরপুর টেস্টে টস জেতা বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ও তানজিদ হাসান তামিমের বিপক্ষে শুরু থেকেই ভীতি ছড়িয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার জেডন সিলস ও শামার জোসেফ। তাঁদের গতি ও দুর্দান্ত লাইন-লেংথে অসহায় ছিলেন সাদমান-তামিমরা। প্রথম ১০ ওভারে রান করতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁদের। এ সময় বাংলাদেশ করতে পেরেছিল মোটে ১৯ রান। তাও আবার তামিমের উইকেট হারিয়ে। এমন একটা বাজে শুরুর পরও স্বস্তি নিয়েই দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। যেখানে কৃতিত্ব ওই সাদমানের।
সেঞ্চুরির চিন্তা নিয়ে রাতে ঘুমাতে গেলেও সারা দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশা জাগিয়ে রেখেছেন সাদমানই। ওপেনিং সঙ্গী তামিমের পর মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তকেও হারান তিনি। সতীর্থরা আত্মাহুতির দিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ঠান্ডা মাথায় খেলে গেছেন সাদমান। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে দিনের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৪২ রান করা হৃদয় চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে এই জুটিতে বাংলাদেশ পায় ৮৮ রান।
দলীয় ৯ রানে তামিম ফিরলে মুমিনুলকে নিয়ে ৫৯ রান যোগ করে প্রাথমিক বিপদ সামাল দেন সাদমান। অহেতুক শট খেলে জোমেলে ওয়ারিক্যানের বলে জোসেফের হাতে ধরা পড়েন ২৮ রান করা মুমিনুল। ৬৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর সাদমানকে সঙ্গ দেন শান্ত। উইকেটে থিতু হয়েছিলেন অধিনায়ক। কিন্তু সেই ওয়ারিক্যানের বলেই সুইপ করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে ফেরেন শান্ত। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও সফল রিভিউ নিয়ে তাঁকে ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯ রান করে শান্ত আউট হলে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হৃদয়ের সঙ্গে সাদমানের ওই জুটিতে ভালো স্কোরের ভিত পায় স্বাগতিকেরা। অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংসটি সাদমান সাজিয়েছেন ১০ বাউন্ডারিতে। তাঁর সঙ্গে ৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিং করতে নামবেন লিটন দাস। হৃদয় আহত অবসরে ফেরার পর সাদমানের সঙ্গে ১৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন পার করেন লিটন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ওয়ারিক্যান। ২.৩৬ ইকোনমি রেটে ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন এই স্পিনার।
সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা সাদমান দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। তাঁর সেঞ্চুরি নিয়ে টেনশনে গোটা দল। প্রথম দিনের খেলা শেষে এমনটাই বলেন ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, ‘আমরা পুরো দলই আসলে উদ্বিগ্ন। সবাই চাচ্ছিলাম সেঞ্চুরিটা হয়ে যাক। টেস্টে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। ও নিজেও হয়তো বুঝতে পেরেছে, কোচদের সঙ্গে কথা বলে যে ওর সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের রেট বেশি না। অনেক দাপুটে ফিফটি করেও ইনিংস বড় করতে পারেনি। আমার মনে হয়, ও নিজেই সমাধান খুঁজে বের করেছে। আমি আশা করব এই ইনিংস তাকে অনেক কিছু শেখাবে। সামনে সেঞ্চুরি করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।’
আজ সকালে ব্যাটিং করতে নেমে সাদমান নিশ্চয়ই ১ রানের সহজ কাজটা কঠিন করে ফেলবেন না!