ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট—কথাটা ক্লিশে হলেও নাজমুল হোসেন শান্তকে দেখে এটা অনেকে বলতেই পারেন। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১০৭ ও ৮১ রানের দুটি ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন বলেই নয়। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর শরীরী ভাষা ছিল দেখার মতো। শান্তর আশা, বাংলাদেশ আরও সামনের দিকে এগোবে।
শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও শান্ত নেতা হিসেবে কাজ করছেন। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানে জয়ের পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথা প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। গতকাল রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের দলের যে ব্যাপারটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তা হলো আমরা একজন আরেকজনকে সাপোর্ট করি। একজন আরেকজনকে সম্মান করি। একজন আরেকজনের ভালো পারফরম্যান্সে খুশি হই। খারাপ পারফরম্যান্সে কষ্ট পাই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারাবাহিকতা দরকার এবং লম্বা সময় ধরে এটা ধরে রাখতে পারলে এই দল অনেক ওপরের দিকে যাবে।’
মাঠে থাকা ১১ জনই নয়, ড্রেসিংরুমে যে চার ক্রিকেটার বসেছিলেন মিরপুর টেস্টে জয়ের কৃতিত্ব তাঁদেরকেও দিয়েছেন শান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ বিকেলে জয়ের পর ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সবাই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আজকের ম্যাচটা জয়ের পেছনে আমার মনে হয় যে ব্যক্তিগত কারও কৃতিত্ব না। পুরো দল হিসেবে খেলেছি। বিশেষ করে যে চার ক্রিকেটার খেলেনি, সেই চারজনসহ।’
শান্তর মতো মুমিনুল হকও মিরপুর টেস্টে দুই ইনিংসে ফিফটি করেছেন। ৯১ ও ৫৬ রানের ইনিংস খেলে মুমিনুল পেয়েছেন ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল ক্রিকেটার’-এর স্বীকৃতি। প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে শান্ত-মুমিনুল ১৭০ ও ১০৫ রানের জুটি গড়েন। জয়ের পর মুমিনুল উপহার পাওয়া বাইকে চড়িয়েছেন মুশফিকুর রহিমকে। আর নাহিদ রানা প্রথম ইনিংসে নিষ্প্রভ থাকলেও (১০৪ রানে ১ উইকেট) জ্বলে উঠেছেন আসল সময়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন রানা।
রানার মতো মেহেদী হাসান মিরাজও নিয়েছেন ৬ উইকেট। মিরপুরের পেস সহায়ক উইকেটে প্রথম ইনিংসে মিরাজ পেয়েছেন ৫ উইকেট। ১০৪ রানে অসাধারণ জয়ের পর শান্তর চোখ এখন সিলেটে। ড্রেসিংরুমে গতকাল সতীর্থদের বাংলাদেশ অধিনায়ত বলেন, ‘বিশেষ করে আজকের দিনটা আমাদের উপভোগ করার জন্য। আমরা যেভাবে পুরো পাঁচ দিন খেলেছি, আজকের দিনটা আমরা উপভোগ করব। তবে কাল থেকে আবার পরের টেস্ট ম্যাচের জন্য মানসিক প্রস্তুতি ধীরে ধীরে নিতে থাকি। পরের টেস্ট ম্যাচটা আমরা কীভাবে তাদের বিপক্ষে খেলব, কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, এর চেয়েও কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, এই ধারাবাহিকতা আমাদের দরকার।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। তাতে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট জয়ের রেকর্ডটা শান্ত ভাগাভাগি করে নিলেন মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে। মুশফিক, শান্তর অধিনায়কত্বে সাতটি করে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। সিলেট টেস্ট জিতলে ২০২৪ সালের পর এবারও পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাইয়ের কীর্তি গড়বে বাংলাদেশ। ১৬ মে সিলেটে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টের দলও অপরিবর্তিত রেখেছে বিসিবি। তাতে তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসানের টেস্টে অভিষেকের সম্ভাবনা জোরালো হলো।