এই তো এক বছর আগেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দুঃসময়ের চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছিল। পাকিস্তান-আফগানিস্তানের কাছে ধবলধোলাই হওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের নিয়ে চলছিল তুমুল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ। এবার সেই বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছে তাঁর হারানো ঐতিহ্য। ছন্দে থাকা বাংলাদেশের প্রশংসায় পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী।
এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দলের কথা উঠলে সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই শোনা যায় আফগানিস্তানের নাম। জিনিসটা যে ব্যঙ্গ করে বলা, সেটা না বললেও চলছে। তবে বাসিতের চোখে এশিয়ার সেরা দল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এমনকি টেস্টে বাংলাদেশ ধবলধোলাই করেছে পাকিস্তানকেও। বাসিত গতকাল নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল এখন বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে—সব জায়গাতেই তারা টপ ক্লাস।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই অসাধারণ খেলেছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। সাড়ে তিন বছর পর ফিরে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৭০ বলে ৮৬ রানের পাশাপাশি বোলিংয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। গতির ঝড়ে নাহিদ রানা পেয়েছেন ৪ উইকেট। দাপুটে জয়ের পর বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বাসিত, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও যেভাবে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়ে খেলেছে, সেটি অনেক বড় অর্জন। ক্রিকেট খেলতে হয় এভাবেই।’
কয়েক মাস আগেও ‘ধানখেতের উইকেট’ বলা হতো মিরপুরের উইকেটকে। তবে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান সিরিজের পর সেই ধারণা অনেকটা বদলে গেছে। গতকাল বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ানডের দিকেই দেখা যাক। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেটের ৭টিই নিয়েছেন পেসাররা। রানা পেয়েছেন ৪ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ ২ ও ১ উইকেট নিয়েছেন।
বাসিতের মতে ঘরের মাঠে উড়তে থাকা বাংলাদেশ ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ভালো খেলবে। যেখানে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়ার পেস সহায়ক কন্ডিশনে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পর বাসিত বলেন, ‘পাকিস্তানকেও সব সংস্করণে হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ এখন অনেক বড় দল। বাংলাদেশের যে বোলিং, তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কন্ডিশনেও ভালো করবে। কেমন পিচ বানাতে হয়, তা বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখে নাও পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ওয়ানডে সিরিজ দেখে মনে হচ্ছিল টেস্ট ম্যাচ চলছে।’
বাসিতের কথা একেবারে অমূলক নয়। গত ৪ জুন লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় ওয়ানডেতে সব মিলিয়ে উঠেছে ৩১৯ রান। পড়েছে ১৬ উইকেট। ওভারপ্রতি চার রান করেও ওঠেনি। সেই ম্যাচের রেটিং গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) দিয়েছে অসন্তোষজনক। দেওয়া হয়েছে এক ডিমেরিট পয়েন্টও।
বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হাতছানি। পরশু মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ১৪ জুন হবে তৃতীয় ওয়ানডে। এরপর দুই দল চলে যাবে চট্টগ্রামে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন সিরিজের তিন টি-টোয়েন্টি হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে।