২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন অস্ট্রেলিয়া দল পাচ্ছে একের পর এক দুঃসংবাদ। একে তো আইসিসির এই ইভেন্টে নেই পেস বোলিং অলরাউন্ডার প্যাট কামিন্স। এবার আরেক তারকা পেসার জশ হ্যাজলউডকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় অজিরা।
অ্যাকিলিসের চোটে পড়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুর দিকে না খেলার শঙ্কায় হ্যাজলউড। অস্ট্রেলিয়া দল যখন বিশ্বকাপ খেলতে পৌঁছে গেছে শ্রীলঙ্কায়, তিনি তখন সিডনিতে বসে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম চালাবেন। হ্যাজলউডের পরিবর্তে বিশ্বকাপ দলে কাভার হিসেবে নেওয়া হয়েছে শন অ্যাবটকে।
বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে হ্যাজলউডের পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম বেশি জরুরি বলে মনে করছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডেমেইড। হ্যাজলউডের ব্যাপারে ডোডেমেইড বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার আগে হ্যাজলউডের পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া অনেক বেশি কার্যকরী বলে আমরা মনে করছি। নাথানও যেহেতু ফিরছে, আমরা তাই পেস বোলিংয়ে কাভার হিসেবে শনকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। শন পরিপূর্ণ একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তাঁর বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
৩১ জানুয়ারি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। প্রাথমিক দলে কামিন্স থাকলেও পিঠের চোটের কারণে চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি তাঁর। এর আগে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও চোটে পড়ায় খেলতে পারেননি কামিন্স। এদিকে হ্যাজলউড গত বছরের অক্টোবরে মেলবোর্নে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর খেলতে পারেননি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয়ের সিরিজটা তিনি মিস করেছেন।
হ্যাজলউড কবে ফিরবেন, সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায়নি। এমনকি বিশ্বকাপে খেলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। যদি বিশ্বকাপে না খেলতে পারেন হ্যাজলউড, তাহলে অস্ট্রেলিয়া পেসত্রয়ীকে (কামিন্স-হ্যাজলউড-মিচেল স্টার্ক) পাবে না। কামিন্স তো এমনিতেই নেই। আর গত বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছেন মিচেল স্টার্ক।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অ্যাবটের অভিষেক হলেও ১২ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫৮ ম্যাচ খেলেছেন। ২৯টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলেননি। ওয়ানডে বিশ্বকাপে একমাত্র ম্যাচ খেলেছেন ২০২৩ সালে পুনেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ১০ ওভারে ৬১ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।
‘বি’ গ্রুপে থাকা অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের সব ম্যাচই খেলবে শ্রীলঙ্কায়। ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। একই মাঠে ১৩ ফেব্রুয়ারি অজিরা খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপর অজিরা চলে যাবে পাল্লেকেলেতে। এই ভেন্যুতে ১৬ ও ২০ ফেব্রুয়ারি গ্রুপপর্বের শেষ দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার দল
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), হ্যাভিয়ের বার্টলেট, কুপার কনলি, টিম ডেভিড, বেন ডারউইশ, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জাম্পা, শন অ্যাবট (ট্রাভেলিং রিজার্ভ)