দলীয় ১১৬ রানে মেহেদী হাসান মিরাজ যখন ফিরে যান, তখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল—সম্মানজনক সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারবে তো বাংলাদেশ? শেষ পর্যন্ত লজ্জা এড়িয়ে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্বাগতিকেরা এই সমীকরণ মিলিয়েছে। সেটা সম্ভব হয়েছে লিটন দাসের লড়িয়ে ইনিংসে ভর করে।
শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসেন নাহিদ রানা। মোকাবেলা করা চতুর্থ বলেই উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ক্যাচ দেন এই পেসার। রানার বিদায়ে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ; তার আগে করেছে ২৭৮ রান। দলকে পৌনে তিনশর কোটায় নিয়ে যেতে দারুণ এক সেঞ্চুরি উপহার দেন লিটন। ওপরের সারির ব্যাটাররা ফিরে গেলেও লড়াই চালিয়ে যান। টেলএন্ডারদের নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দিয়েছে।
হাসান আলীর বলে আব্দুল্লাহ ফজলের হাতে ধরা পড়লে লিটনের ইনিংস থামে। তার আগে ১৬ চার এবং ২ ছক্কায় খেলেন ১২৬ রানের ইনিংস। ষষ্ঠ উইকেটে তাইজুলকে (১৬) নিয়ে যোগ করেন ৬০ রান। নবম উইকেটে শরীফুল (১২) ইসলামের সঙ্গে তাঁর জুটি ৬৪ রানের। তার আগে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আরও ৩৮ রান যোগ করেন লিটন। ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে লিটনময় একটা দিনটাই দেখল ভক্তরা।
এর আগে প্রথম দুই সেশনে তিনটি করে উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছিল বাংলাদেশ। আরও একবার ব্যর্থ ওপেনিং জুটি। স্কোরবোর্ডের কোনো রান হওয়ার আগে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান। ভালো খেলতে থাকা অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম আউট হয়েছেন ২৬ রান করে। ২২ রানের বেশি করতে পারেননি ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসেই ফিফটির দেখা পাওয়া মুমিনুল হক।
চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার আভাস দিয়েছিলেন শান্ত। ব্যক্তিগত ২৯ রানে কাটা পড়ে অধিনায়কের ইনিংস। পাকিস্তানের ভুলে একবার বেঁচে যাওয়া মুশফিকও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৩ রানে খুররম শেহজাদের বলে এলবিডব্লু হন সাবেক অধিনায়ক। বড় শট খেলতে গিয়ে হাসান আলীর হাতে ধরা পড়েন মিরাজ। মাত্র ৪ রান আসে ওয়ানডে দলপতির ব্যাট থেকে।
৮১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার শেহজাদ। আব্বাসের শিকার তিনটি। ৪৫ রান দেন এই পেসার। এ ছাড়া হাসান ২ এবং সাজিদ নেন ১ উইকেট।