হোম > খেলা > ক্রিকেট

মুশফিক-তাইজুলের সঙ্গে পাকিস্তান অধিনায়কের কী নিয়ে লেগেছিল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মুশফিকুর রহিমকে আজ স্লেজিং করেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর থেকে সিলেট—ভেন্যু বদলালেও চিত্রটা থেকে গেছে একই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিং, বোলিংয়ে কিছুই করতে পারছে না পাকিস্তান। বল কুড়োতে কুড়োতেই সফরকারীরা রীতিমতো বিরক্ত। পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদ তখন তাইজুল ইসলাম-মুশফিকুর রহিমকে স্লেজিংয়ে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও মাসুদ ব্যর্থ হয়েছেন।

আজ সিলেটে তৃতীয় দিনের সময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ৭৯তম ওভারের ঘটনা। পাকিস্তানি পেসার খুররম শেহজাদ বোলিং শুরুর আগে মাসুদ ও মুশফিকের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। মুশফিক যখন নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে ফিরছিলেন, তখন আবারও তাঁর দিকে তেড়ে যান মাসুদ। শুধু মুশফিকের সঙ্গেই নয়, পাকিস্তানি অধিনায়কের লেগে গিয়েছিল তাইজুলের সঙ্গেও।

দিনের খেলা শেষে তাইজুল যখন সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তখন মাসুদের সঙ্গে তাঁদের (তাইজুল-মুশফিক) কথাবার্তার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তরে তাইজুল বলেন, ‘এটা আসলে আপনি যখন ম্যাচে নামবেন তো আসলে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তারাও হয়তো অনেক সময় ধরে ফিল্ডিং করছিল। ধৈর্য ধরে রাখতে পারেনি। মুশফিক ভাইও তেমন কিছু বলেনি। মুশফিক ভাইতো সাধারণত আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কিন্ত সে কী বুঝেছে না বুঝেছে, সেকারণেই হয়তো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’

মাসুদের সঙ্গে ঝগড়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে তাইজুল চার মেরেছেন শেহজাদকে। পাকিস্তানি পেসারের শর্ট বল ফাইন লেগ দিয়ে চার মারেন। বলটাও ছিল নো বল। বোঝাই যাচ্ছে স্লেজিংয়ের পর উল্টো এলোমেলো হয়েছে পাকিস্তানই। আজ তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তাইজুল বলেন, ‘আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে আসলে সে (মাসুদ) আমাকে বলছিল যে তুমি ব্যাটিং করতে আসো। আসলে এটা তো তার কাজ না। ব্যাটিং করা আমার কাজ। তারপর চার মারলাম। শুধু এতটুকুই।’

ওয়ানডে ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে আগেই বিদায় বেলা মুশফিক এখন শুধু টেস্টই খেলছেন। গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে শুরু করে এ বছরের পাকিস্তান সিরিজ—১১ মাসে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬৩ ও ১০৬ রানের দুটি ইনিংসের পর তিনি এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছেন ১৩৭ রান।

২১ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে থাকা মুশফিকের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা আশীর্বাদ মনে করেন তাইজুল। আজ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমাদের জন্য আলহামদুলিল্লাহ খুবই ইতিবাচক একটা দিক। আপনি যখন সিনিয়র প্লেয়ারের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করবেন, তাঁর যে একটা অভিজ্ঞতা বলেন বা তিনি যখন রান করেন, যখন উইকেটে থাকেন, তাঁর সঙ্গে আরেকজন যে থাকে তো আসলে তার খেলাটা সহজ হয়। যখন আমি ব্যাটিং করছিলাম, হয়তোবা আমাকে অনেক তথ্য দিচ্ছিল। আপনি ব্যাটিং করবেন ৫০ শতাংশ আর ৩০-৪০ শতাংশ আপনার জন্য সহজ হয়ে যায়। একজন অভিজ্ঞ কারো সঙ্গে ব্যাটিং করাটা বা ড্রেসিংরুম শেয়ার করাটা, অনেক কিছু বুঝতে পারাটা সহজ হয়ে যায়।’

প্রথম ইনিংসে তাইজুলের সঙ্গে লিটন দাস অনেকবার সিঙ্গেল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দেখা গেল অন্য ঘটনা। এবার তাইজুলকে অনেক বল মোকাবিলার সুযোগ দেন মুশফিক। সপ্তম উইকেটে তাইজুল-মুশফিক গড়েন ৭৭ রানের জুটি। তাইজুল করেন ২২ রান। লেজের দিকের ব্যাটারের সঙ্গে মুশফিকের এই জুটিও বাংলাদেশকে ৩৯০ রানে পৌঁছে দিতে অবদান রেখেছে।

জুটি গড়ার সময় মুশফিকের সঙ্গে কী কথা হচ্ছিল—সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয় তাইজুলকে। উত্তরে বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার বলেন, ‘কথা আসলে এখানে তো মাঠের ভেতরে অনেক ধরনেরই কথা হতে পারে। আমি প্রথম দিকে বললাম যে একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার যখন থাকে, আসলে অনেক কিছু সহজ করে দেয়। বোলার কী করতে চাচ্ছে, মানে স্বাভাবিক কথাবার্তাগুলো হয়। সহজ করে বুঝাতে গেলে পরিস্থিতি কী হতে পারে, এসব ব্যাপারে আলোচনা হয়।’

বাংলাদেশের দেওয়া ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারলে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি গড়বে পাকিস্তান। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৫ সালে। ১১ বছর আগে পাল্লেকেলেতে লঙ্কানদের দেওয়া ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল পাকিস্তান। তখন পাকিস্তান করেছিল ৩ উইকেটে ৩৮২ রান। এবার সিলেটে জিতলে ১১ বছরের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি সিলেটে দ্বিতীয় দল হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের কীর্তি গড়বে পাকিস্তান। এই মাঠে গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে।

আইপিএল ফাইনালে না গেলেও আইসিসি সভায় কী করবেন পাকিস্তান বোর্ড চেয়ারম্যান

বাংলাদেশকে হারাতে রানের পাহাড় টপকাতে হবে পাকিস্তানকে

সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়তে পাকিস্তানকেই বেছে নিলেন মুশফিক

পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিক আজ যা করলেন, তা বাংলাদেশের আর কেউ পারেননি

পাঁচ বছর আগেই বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ধোনি, আজ কি সেই রাত

লিটনের আক্ষেপ এবং প্রাপ্তির এক ইনিংস

বড় লিডের অপেক্ষায় লাঞ্চে গেল বাংলাদেশ

শান্তকে ফিরিয়েও স্বস্তিতে নেই পাকিস্তান

‘লিটন সেঞ্চুরি না করলে বেকায়দায় পড়ত বাংলাদেশ’

তবু রানাকে ‘ভয়’ পান না বাবর