আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করেছিল ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন। এই ম্যাচে শত কোটি ভারতীয় সমর্থক মনেপ্রাণে আফগানদের জয় চেয়েছিল। বড় ব্যবধানে জিততে পারলে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকে থাকত আফগানদেরও। তবে এর কোনোটিই হয়নি, নিউজিল্যান্ডের কাছে আফগানরা ৮ উইকেটে হেরে ভারতকে সঙ্গে নিয়েই ডুবল।
আফগানদের দেওয়া ১২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে তৃতীয় ওভারে ড্যারিল মিচেলের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ১২ বলে ১৭ রান করা মিচেল মুজিবুর রহমানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। দলীয় ৫৭ রানে মার্টিন গাপটিলকে রশিদ খান বোল্ড করলে কিছুটা চাপে পড়ে কিউইরা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ডেভন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসন শক্ত হাতেই চাপ সামলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। উইলিয়ামসন ৪০ ও কনওয়ে ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি আর অ্যাডাম মিলনের পেস তোপে শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি আফগানরা। ৮ রানে মোহাম্মদ শেহজাদ আউট হলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ১১ বলে ৪ রান করা শেহজাদ মিলনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। পরে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ফিরেছেন হজরতুল্লাহ জাজাই (২) আর রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬)।
১৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে নাজিবউল্লাহ জাদরান ও গুলবাদিন নাইব ২৯ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলান। দলীয় ৫৬ রানে ইশ সোধির অনেক বাহিরের বল টেনে এনে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হোন নাইব (১৮)। পরে মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে এগোতে থাকেন জাদরান। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন যোগ করেন ৪৮ বলে ৫৯।
ব্যক্তিগত ১৪ রান করে নবী সাউদিকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জাদরানও (৭৩)। বোল্টের বলে দৌড়ে এসে লং অফে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন জিমি নিশাম। ১ বলেই পরে কারিম জানাতকে সোধির হাতে ক্যাচ বানান বোল্ট। ১৮ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৫ তোলা আফগানিস্তান শেষ দুই ওভারে যোগ করতে পেরেছিল ৯ রান। শেষ ওভারে নিশাম তো ২ রান দিয়ে শেষ বলে ফিরিয়েছেন রশিদকে। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান থামে ৮ উইকেটে ১২৪ রানে।