জয় দিয়েই জাতীয় দলের কোচিং পর্ব শেষ করলেন মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন। সিলেটে গতকাল পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে তাদের দুইবার ধবলধোলাইয়ের কীর্তি করল বাংলাদেশ। কিন্তু জয় দিয়ে জাতীয় দলের দীর্ঘ দেড় বছরের কোচিং ক্যারিয়ার শেষের পর বোমা ফাটালেন তিনি।
জাতীয় দলের পর্ব শেষ করে সালাহ উদ্দীন এখন এইচপির দায়িত্বে। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে আজ তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচ কোনো রাখঢাক না রেখেই জানালেন, জাতীয় দলের কোচ অবশ্যই হতে হবে এমন কোনো চিন্তাভাবনা তাঁর ছিল না। সাংবাদিকদের সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘আমি কোনোদিন বলিনি যে, আমাকে জাতীয় দলের কোচ বানাতেই হবে। আপনারা বানিয়েছেন, আপনারাই দিয়েছেন, আপনারাই বের করেছেন। এটা সমস্যা না। জীবনে আমি এমন একটা মানুষ আমার কোনো আক্ষেপ নেই। ঠিক আছে? আমি কখনো আক্ষেপ নিয়ে বাঁচিনি।’
সিলেটে গতকাল তানজিদ হাসান তামিম ক্যাচ ধরার পর তাইজুল ইসলাম মুষ্টিবদ্ধ উদযাপন করেছেন। ডাগআউট থেকে ভেসে আসছিল করতালির আওয়াজ। নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদুল হাসান জয়, লিটন দাসরা উদযাপনের সময় কোলে তুলে এনে সালাহ উদ্দীনকে বসিয়ে ছবি তুলেছেন। পাকিস্তানকে টানা চার টেস্টে হারিয়ে একের পর এক সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে হারানোর পর শান্ত-লিটনদের নিয়ে যখন সামাজিক মাধ্যমে চলছে প্রশংসা, সালাহ উদ্দীন তুলে ধরলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের আসল চিত্র। ২০১২, ২০১৬, ২০১৮—তিন বার এশিয়া কাপ ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। মেজর ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরে থাক, ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ২০১৫ সালে। আইসিসি ইভেন্টে সেরা সফলতা বিবেচনায় নিলে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কখনো সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচ বলেন, ‘এটাতে সন্তষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না। কারণ, আমরা এখন পর্যন্ত মেজর কোনো টুর্নামেন্টে ভালো করিনি। তারপরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের অবস্থার আরো উপরে নিতে পারিনি।’
বাংলাদেশ দল বাজে খেললে কোচদের নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে করা হয় তুমুল ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। দীর্ঘমেয়াদে খুব কম কোচই কাজ করতে পারেন। সালাহ উদ্দীন আজ সংবাদমাধ্যমকে বলতে চাইলেন এটাই, ‘দেখুন এটা আপনারা বাইরে থেকে চিন্তা করেছেন যে এই হয়ে গেল, সেই হয়ে গেল। আমরা তো কখনো ভেতরে যারা ছিলাম, তারা কখনো এটা নিয়ে চিন্তা করিনি এবং আমরা চিন্তা করছিলাম দলটা আগাচ্ছে কি না? দলের অবস্থা ভালো হচ্ছে কি না। তাই ভালোর স্বার্থে দুই তিনবার আসলে বা কিছু সময় যদি আপনার নামে কেউ খারাপ কথা বলে, সমস্যা নেই তো। তবে আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না। এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেয়েছি দলটা যেন এগোয় এবং দলটা যেন ভালো অবস্থায় যায়। আমার মতে শেষ ছয় মাসে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে।’
ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সফল কোচ সালাহ উদ্দীন ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের দায়িত্বে এসেছিলেন। দীর্ঘ ১৮ মাস অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে শেষটা হয়েছে মনে রাখার মতো। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে হিসাব করলে এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আর পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের পাঁচে উঠে এসেছে শান্ত-লিটনদের বাংলাদেশ। টেস্ট ইতিহাসের সেরা র্যাঙ্কিং সাতেও পৌঁছেছে বাংলাদেশ।