অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের রেকর্ডটা এখনো নাজমুল হোসেন শান্তর। ২ সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটিতে করেন ১৮২০ রান। সেই ধারাবাহিকতায় সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। নেতৃত্বও দিচ্ছেন দলকে। তবে তাঁর এই পর্যায়ে উঠে আসতে অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হচ্ছে।
প্রাইম ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্ত্বাবধানে আগামীকাল শুরু হচ্ছে ২০২৫-২৬ স্কুল ক্রিকেট। আজ টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়রা। বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও ছিলেন।
জাতীয় দলে ৯ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে শান্তকে। একটা সময় তিন সংস্করণের অধিনায়ক থাকলেও বর্তমানে কেবল টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর এই আজকের শান্ত হয়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছেন তিনি। আজ জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে একটা টুর্নামেন্ট খেলতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। সুযোগ দেওয়ায় বিসিবিকে ধন্যবাদ। সে সময় কেরালাতে একটা সফরই হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম। তারপর বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৮ থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’
ছাত্ররা যেন স্কুল ক্রিকেটকে গুরুত্ব সহকারে দেখেন, শান্তর পরামর্শ সেটাই। আজ বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আমার মতে স্কুল ক্রিকেটকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। ছাত্রদের আমি বলব, খেলাটা আমরা উপভোগ করি দেখেই খেলি। একই সঙ্গে এগুলো একটা সুযোগও। এ জায়গায় ভালো করলে ভালো জায়গায় যেতে পারব।’
স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন শান্ত। আজ জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট যত সুন্দরভাবে করা যায়, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা যদি বাড়াতে পারি, তাহলে তারা খেলতে আসবে। অনেক সময় দেখা যায়, স্কুলগুলোকে আমন্ত্রণ করা লাগে। তখন দেখা যাবে, আমন্ত্রণ করা লাগবে না। নিজে থেকে আসবে।’
হৃদয় তো স্কুল ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। ২৫ বছর বয়সী এই মিডল অর্ডার ব্যাটার বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেট নিয়ে কিছু বলতে গেলেই আবেগী হয়ে পড়ি। আমার ক্যারিয়ারই শুরু করি স্কুল ক্রিকেট দিয়ে। বছর দুয়েক আগে টসের কারণে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছিল। যখন বৃষ্টি না হয়, এমন সময়ে স্কুল ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করা হোক, সেটাই আমার চাওয়া।’
প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটে এ বছর ৬৪ জেলা থেকে অংশ নিচ্ছে ৩৫০ স্কুল। আগামীকাল এলাকাভিত্তিক পর্যায়ে খেলা শুরু হবে। পরে জাতীয় পর্যায়ে ম্যাচ শুরু হবে। ফাইনাল মিরপুর শেরেবাংলায় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র।