সিলেটে আজ দিনের শুরুতে মুড়ি-মুড়কির মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট তুলে নিচ্ছিল বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট হেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাংলাদেশ যে কতটা ক্ষুধার্ত, সেটা বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু স্বাগতিকদের হুংকার ওই প্রথম সেশন পর্যন্তই। বেকায়দায় পড়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে দারুণভাবে। দিনটা শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল উইন্ডিজেরই।
মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টে নিয়ম করেই দেখা গিয়েছিল আলোকস্বল্পতার সমস্যা। দুপুরে তা-ই জ্বালাতে হয়েছিল ফ্লাডলাইট। এবার একই সমস্যা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও। আলোকস্বল্পতার কারণে চা পানের বিরতির পর দুই দফা বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে দিনের নির্ধারিত ৯০ ওভার পুরোটা হতেই পারেনি। ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুতেই বেশ চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রানে পরিণত হয় উইন্ডিজ। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং, জশুয়া ডা সিলভাকে ফিরিয়েছেন তাসকিন। যাঁদের মধ্যে ৯ রান করা কিংকে বোল্ড করে স্টাম্প খণ্ড-বিখণ্ড করে দেন তাসকিন। আরেক ওপেনার ডা সিলভা ১২ রান করে বাংলাদেশের গতিতারকার এলবিডব্লুর শিকার হয়েছেন। আর তিন নম্বরে নামা ওপেনার কাভেম হজকে (১) বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারানোর পর হাল ধরেন জাঙ্গু-কেভিন উইকহাম। যেখানে উইকহামের এই সিলেট টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা (উইকহাম-জাঙ্গু) ২৫১ বলে ১৩১ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি গড়ার পথে তাঁরা চাইলে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ধন্যবাদ দিতে পারেন। জাঙ্গু দুইবারই জীবন পেয়েছেন। দুইবারই বোলার ছিলেন হাসান মাহমুদ। যার মধ্যে ১৭তম ওভারের প্রথম বলে লিটন দাস ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি। জাঙ্গুর রান তখন ২২। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬০ রানে হারাতে পারত চতুর্থ উইকেট।
দ্বিতীয়বার যখন জাঙ্গু জীবন পান, তখন তাঁর রান ৬৮। ৪৭তম ওভারের চতুর্থ বলে হাসান মাহমুদকে পুল করতে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি ব্যাটার। কট এন্ড বোল্ডের সুযোগ হাতছাড়া করেন বাংলাদেশি পেসার। দুইবার জীবন পাওয়া জাঙ্গু দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। তবে উইকহাম ফিফটির পর বেশি রান যোগ করতে পারেননি। ৫১তম ওভারের প্রথম বলে উইকহামকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। অভিষেক ইনিংসে ১৪৫ বলে ৫ চারে ৬১ রান করেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার।
উইকহামের পর ব্যাটিংয়ে নামেন জাস্টিন গ্রিভস। এরই মধ্যে পঞ্চম উইকেটে গ্রিভস-জাঙ্গু ৫৮ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে ফেলেছেন। এর আগে ৫৫ ওভারে যখন ৪ উইকেটে ১৮০ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখন চা পানের বিরতি ঘোষণা করা হয়। তৃতীয় সেশনে ১০ ওভার খেলা হওয়ার পর দেখা দেয় আলোকস্বল্পতার সমস্যা। এই সময়েই সেঞ্চুরি তুলে নেন জাঙ্গু। ৬৩তম ওভারের পঞ্চম বলে তাইজুলকে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি ব্যাটার।
৬৫ ওভারে যখন ৪ উইকেটে ২১৬ রান, তখন আলোকস্বল্পতা দেখা দেয়। ৩৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয় খেলা। তবে এবার হয়েছে কেবল ৫ ওভার। দ্বিতীয় দফায় আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার পর আর শুরু করা যায়নি। প্রথম দিনের খেলা হয়েছে ৭০ ওভার। জাঙ্গু ১১১ রানে অপরাজিত। ১৭১ বলের ইনিংসে ১১ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন। জাস্টিন গ্রিভস ৩৫ রানে ব্যাটিং করছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা জাঙ্গুর চতুর্থ সেঞ্চুরি। যার মধ্যে দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সেন্ট কিটসে ওয়ানডেতে ছিল সেই সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচও ছিল। চার সেঞ্চুরির মধ্যে দুটিই টেস্টে এবং দুটিই ওয়ানডেতে। এ বছরের জুলাইয়ে টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে করেন সেঞ্চুরি।