কেপটাউন থেকে কলম্বো—বিমানপথে প্রায় ৫০০০ কিলোমিটারের দূরত্ব পাড়ি দিতে কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৭ ঘণ্টা তো লাগেই। কিন্তু জিম্বাবুয়ের জন্য সেটা তো কেবল ১৫-১৭ ঘণ্টার অপেক্ষা নয়। গুনে গুনে ১৯ বছর পর টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেল জিম্বাবুয়ে। কলম্বোর প্রেমাদাসায় আজ অস্ট্রেলিয়ার এক-একটা উইকেট পতনের পর খেলোয়াড়দের উদযাপন, দর্শকদের উদ্দীপনা বলে দিচ্ছে জিম্বাবুয়ের এই জয়ের মাহাত্ম্য কতটা বেশি।
টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দেখাতেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। কেপটাউনে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। সেই ম্যাচের পর মাত্র দুবার টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে জিম্বাবুয়ে-অস্ট্রেলিয়া। সেই দুটিতে অবশ্য হেরেছে জিম্বাবুয়ে। আজ কলম্বোর প্রেমাদাসায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চেই অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
১৭০ রানের লক্ষ্য বর্তমান টি-টোয়েন্টিতে আহামরি তেমন বড় কিছু নয়। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের কাছে এই রান তাড়া করে জেতা অনেকটা ডালভাত। তার ওপর প্রতিপক্ষ আবার জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সবকিছু কি সমীকরণ অনুযায়ী চলে? জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম চার ব্যাটারের মধ্যে ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছেন। ট্রাভিস হেড ১৫ বলে ১৭ রান করে আউট হয়েছেন। আরেক ওপেনার জশ ইংলিশ এক অঙ্কের ঘরে (৮) আউট হয়েছেন।
বেকায়দায় পড়া অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরেন ম্যাট রেনশ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। পঞ্চম উইকেটে ৫৯ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (রেনশ-ম্যাক্সওয়েল)। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাক্সওয়েলকে (৩২) ফিরিয়ে ধাক্কা দেন জিম্বাবুয়ের লেগস্পিনার রায়ান বার্ল। সতীর্থরা আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত থাকলেও রেনশ একপ্রান্তে আগলে খেলতে থাকেন। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রেনশকে ফিরিয়ে ‘গলার কাঁটা’ দূর করেন জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। ৪৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় রেনশ করেন ৬৫ রান।
রেনশ আউট হওয়ার পর ৮ বলে ৩১ রানের সমীকরণের সামনে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। অজিরা এরপর ধারেকাছেও যেতে পারেনি। ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে ম্যাট কুনেমান রানআউট হলে শেষ অজিদের ইনিংস। ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি ৪ ওভারে ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন।
প্রেমাদাসায় আজ টসের সময় দুঃসংবাদ দিয়েছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ায় বিশ্বকাপই শেষ হয়ে গেল ব্রেন্ডন টেলরের। ১২ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরে কেবল এক ম্যাচই খেলতে পেরেছিলেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ট্রাভিস হেড। নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ ছিলেন না এই ম্যাচেও। নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৯ রান করেছে জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৪ রান এসেছে ব্রায়ান বেনেটের ব্যাটে। ৫৬ বলে ৭ চারে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। চার নম্বরে নেমে অধিনায়ক রাজা ১৩ বলে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ২ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার মার্কাস স্টয়নিস ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।