উড়ন্ত শুরুর পর ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন। সেখান থেকে সালমান আলী আগা এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে সফরকারী দল। কিন্তু সালমান রান আউট হয়ে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। এই রান আউট নিয়েই চলছে তর্ক-বিতর্ক।
পাকিস্তানের ৩৯ তম ওভারের ঘটনা। মেহেদী হাসান মিরাজের করা সে ওভারের চতুর্থ বলটি ফ্লিক করেন রিজওয়ান। বল চলে যাচ্ছিল নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমানের দিকে। কিছুটা দৌঁড়ে বল ধরার জন্য যাচ্ছিলেন মিরাজ। সালমানও বল তুলে স্বাগতিক অধিনায়ককে দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু তার আগেই মিরাজ বল তুলে স্টাম্প ভাঙেন। তখন পপিং ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান।
আবেদন করতেই আউট দেন আম্পায়ার। যেটা মেনে নিতে পারেননি সালমান; মাঠেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিটন দাসের সঙ্গে তর্কও হয় সালমানের। পরিস্থিতি শান্ত করেন রিজওয়ান। মাঠ ছাড়ার সময় রাগে নিজের হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ফেলে দেন সালমান। এই আউটে পাকিস্তানের ১০৯ রানের জুটি ভাঙে। ৬২ বলে ৬৪ রান করেন সালমান।
এমসিসির ধারা ৩৮.১-এ লেখা, ‘বল চলাকালীন যেকোনো সময় কোনো ব্যাটার যদি তার সীমানার বাইরে থাকেন এবং ফিল্ডারের সরাসরি অংশগ্রহণে উইকেট সঠিকভাবে ভাঙা হয়, তবে তিনি রান আউট বিবেচিত হবেন। এমনকি ‘নো বল’ ডাকা হলেও এটি কার্যকর হতে পারে (ধারা ৩৮.২. ২.২ এর পরিস্থিতি ছাড়া) এবং ব্যাটার রান নেওয়ার চেষ্টা করেন বা না করেন তাতে কিছু যায় আসে না।’
এই আউট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যে তিনি বলেন, ‘টেকনিক্যাল দিক থেকে এবং ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী তিনি আউট ছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব? আমার মনে হয় সেটি বড়সড় একটি ধাক্কা খেয়েছে। ব্যাটার কেবল বলটি তুলে নিয়ে বোলারের হাতে ফেরত দিতে যাচ্ছিলেন, আর বোলার মনে করলেন এটি রান আউটের একটি সুযোগ। তাই তাঁর জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে; পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন, যা সংগতই।’