বলছেন বাফুফে সভাপতি
শুরুটা বিমানবন্দর থেকেই। ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলকে বরণ করা হয়েছে। ছাদখোলা বাসে বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিল এম্ফি থিয়েটারে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, তারেক রহমানের অনুপ্রেরণাতেই সাবিনারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
হাতিরঝিলের এম্ফি থিয়েটারে চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটসালের অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক সাবিনাকে শুরুতেই অভিনন্দন জানিয়ে তাবিথ বলেন, ‘প্রথমে আমি শুরু করতে চাই। অভিনন্দন নারী ফুটসাল দল। শুধুমাত্র সাফে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়াই নয়। আবারও একটা ট্রফি এনে দেওয়ার জন্য আমি অভিনন্দন জানাতে চাই সাবিনাকে। সেজন্য আমি বলতে চাই সাবিনা হবে প্রথম খেলোয়াড় নারী হোক বা পুরুষ, দুই ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়নশিপ প্রাইজ নিয়ে এসেছে।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে তাবিথ বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন। বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই জনাব তারেক রহমান সাহেবকে। বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান। তিনি বিশেষ করে বলেছেন, ‘তাদের প্রতিভা প্রমাণ করে অল্প রিসোর্স হলেও কত কিছু সম্ভব করা যায় বাংলাদেশে।’ ধন্যবাদ তারেক রহমানকে অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য। ধন্যবাদ তোমাদের যে সেটা প্রমাণ করার জন্য।’
সাবিনাদের চ্যাম্পিয়ন হতে ফুটসালের প্রধান কোচ সাঈদ খোদারাহমি কীভাবে অবদান রেখেছেন, সেই গল্পটা বলেছেন তাবিথ। বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘এই যাত্রাটা কিন্তু আমাদের কোচ বলেছিল মাত্র পাঁচ মাস আগে শুরু হয়েছে। পাঁচ মাস আগে ছেলেদের ফুটসাল দল শুরু করেছিল যখন তারা এএফসি বাছাইপর্বে গিয়েছে। মেয়েদের ফুটসাল কিন্তু মাত্র তিন মাস আগে শুরু হয়েছে। সেটা আমরা কথা বলছিলাম, আমাদের চেয়ারম্যান ইমরান ও প্রধান কোচ। তখন আমরা চিন্তা করলাম যে ছেলেদের তো আমরা সাফে পাঠাচ্ছি। মেয়েরা কেন নয়? তখন আমি চিন্তা করলাম পারব কি না। প্রধান কোচ বললেন, ‘তৎক্ষণাৎ ইরান থেকে দুজন নারী কোচ নিয়ে আসুন। আমি পারব।’’
থাইল্যান্ডে আয়োজিত প্রথম নারী সাফ ফুটসালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ ড্রয়ে টুর্নামেন্টে তাদের পয়েন্ট ১৬। যার মধ্যে হুয়ামাক ইন্দোর স্টেডিয়ামে ২৫ জানুয়ারি থাইল্যান্ডকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবিনা। সর্বোচ্চ ১৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি।
সাবিনাদের যে ছাদখোলা বাসে বরণ করা হবে, সেটা আজ বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল বাফুফে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দোতলা বাস সময়মতো পৌঁছে যায় বিমানবন্দরে।সংবাদমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি ভক্ত-সমর্থকদেরও দেখা যাচ্ছে ঢাকার বিমানবন্দরে। বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত ছাদখোলা বাসে বড় করে লেখা, ‘লাল-সবুজে লেখা এক বিজয়ের গল্প।’ হলুদ ফুল দিয়ে সাজানো সেই বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে ফুটবলাররা শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন। ভক্ত-সমর্থকদের দিকে ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে উদ্যাপন করেছেন সাবিনারা।
নারী ফুটবলারদের ছাদখোলা বাসে বরণের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২২ ও ২০২৪ সালে দুবারই নেপালকে হারিয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দুবার বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে জাঁকজমকপূর্ণ বরণ করা হয়েছিল সাবিনা-ঋতুপর্ণা চাকমাদের। নারী সাফ ফুটবল সেই দুবারের আয়োজক ছিল নেপাল।