হোম > বিজ্ঞান > গবেষণা

এড শিরানের মতো লাল মাথার মানুষ বাড়ছে ইউরোপে—নেপথ্যে কী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ সংগীত তারকা এড শিরানের মতো লালচে চুলের মানুষের সংখ্যা ইউরোপে বাড়ছে, এমনটি উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। একসময় স্কুলগুলোতে এমন বৈশিষ্ট্যের শিক্ষার্থীদের ‘জিঞ্জার’ বলে ঠাট্টা করা হতো, এখন তারাই যেন বিবর্তনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, গত প্রায় ১০ হাজার বছরে ইউরোপীয়দের মধ্যে লাল চুলের জিনের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রিন্স হ্যারি বা ফ্লোরেন্স ওয়েলসের মতো শারীরিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে আরও সাধারণ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণাটি প্রমাণ করে, মানুষ এখনো বিবর্তিত হচ্ছে এবং আগের ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে। পশ্চিম ইউরেশিয়ার প্রায় ১৬ হাজার মানুষের প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় ২৫০ জনের বেশি প্রত্নতত্ত্ববিদ ও নৃবিজ্ঞানী যুক্ত ছিলেন।

গবেষকদের মতে, কৃষির আবির্ভাবের পর থেকেই জিনগত পরিবর্তনের গতি বেড়ে যায়। শিকারি-সংগ্রাহক জীবন থেকে কৃষিনির্ভর সমাজে রূপান্তরের ফলে মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য বেশি সুবিধাজনক হয়ে ওঠে এবং প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়াও এমন জিনগত পরিবর্তনের ফল।

তবে সব পরিবর্তনই যে সহজে ব্যাখ্যা করা যায়, তা নয়। উদাহরণস্বরূপ গম চাষ শুরু হওয়ার পরও গ্লুটেন অসহিষ্ণুতার ঝুঁকি বাড়ার মতো বৈপরীত্য দেখা গেছে। একইভাবে লাল চুলের বিশেষ কোনো স্পষ্ট সুবিধা এখনো নির্ধারণ করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তাঁদের ধারণা, এটি হয়তো অতীতে কোনো উপকারে এসেছিল অথবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ জিনের সঙ্গে ‘সহযাত্রী’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে।

লাল চুলের পাশাপাশি গবেষণায় আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যেমন ফরসা ত্বক, পুরুষদের টাক পড়ার কম প্রবণতা, দ্রুত হাঁটার ক্ষমতা এবং তুলনামূলক বেশি বুদ্ধিমত্তা। পাশাপাশি সিলিয়াক রোগে সংবেদনশীলতা, এইচআইভি প্রতিরোধ, কুষ্ঠরোগ প্রতিরোধ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কম ঝুঁকি এবং শরীরে কম চর্বি থাকার মতো বৈশিষ্ট্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার’ সাময়িকীতে। গবেষক আলী আকবরি জানান, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন সরাসরি দেখা যাচ্ছে কীভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন মানুষের জীববিজ্ঞানে প্রভাব ফেলছে।

এদিকে লাল চুলের মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তারা এখনো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশের কম। ভবিষ্যতে পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলে একই ধরনের গবেষণা চালিয়ে আরও নতুন জেনেটিক তথ্য উদ্‌ঘাটনের পরিকল্পনা রয়েছে গবেষকদের।

মশা কেন আমাদের কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে

শিম্পাঞ্জিদের ৮ বছরের গৃহযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা: মানুষের সহিংসতার ধরনে নতুন চিন্তার খোরাক

বিশ্বের ১৫০০ ভাষার মধ্যে মিলল এক রহস্যময় যোগসূত্র

আফগান-সিরীয় শরণার্থীদের বিয়ে করতে চান না জার্মান নারীরা

মশার কামড়ে নিপাহ-জলাতঙ্কের সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

ছারপোকা নির্মূলের সহজ সমাধান আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা

চাঁদের বুকে নেমে কী কথা বলেছিলেন আর্মস্ট্রংরা

বাংলাদেশে নিপাহর মতোই বাদুড়বাহিত আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাসের সন্ধান

১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে বাসযোগ্য নতুন গ্রহের সন্ধান, পৃথিবীর চেয়ে শীত বেশি

উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস সরাসরি দেখা যাবে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন