হোম > বিজ্ঞান > গবেষণা

মশার কামড়ে নিপাহ-জলাতঙ্কের সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এআই

দিনে দিনে মশার উৎপাত বাড়ছে। বাড়ছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের উপদ্রব। অন্যদিকে এবার বাংলাদেশ ও ভারতে বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সেই প্রকোপ মোকাবিলায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বন্দরে বিধিনিষেধ আরোপ ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার’ পথ খুঁজছেন। তাঁরা মশা ব্যবহার করে বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাসসহ প্রাণঘাতী বিভিন্ন ভাইরাস ছড়ানো বন্ধের চেষ্টা করছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নেচার-এর অনলাইনে এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। চীনের একদল গবেষক গবেষণাটি করছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে এমন কিছু বিশেষ মশার জন্ম দিয়েছেন, যারা কামড়ে বাদুড়ের শরীরে জলাতঙ্ক ও নিপাহ ভাইরাসের প্রতিষেধক পৌঁছে দেবে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসগুলোর সংক্রমণ ঠেকানো। তবে বন্য পরিবেশে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয়ও রয়েছে।

বাদুড় প্রাকৃতিকভাবেই অনেক বিপজ্জনক ভাইরাসের বাহক। এশিয়ার দেশগুলোয় নিপাহ ভাইরাস একটি আতঙ্কের নাম। বাদুড় থেকে ছড়ানো এই রোগে আক্রান্তদের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে। অন্যদিকে, জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। তাই এই দুই ভাইরাসের উৎস বাদুড়কে রোগমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

মজার ব্যাপার হলো, বাদুড় নিজে এসব ভাইরাসে অসুস্থ হয় না। তবে তাদের শরীর থেকে ভাইরাস অন্য প্রাণী বা মানুষের শরীরে ঢুকলে তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বাদুড় যেহেতু ফল ও ফলের রস খায়, কাজেই আপাতত সহজ সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা খেজুরের কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দেন। ফলও ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গবেষকেরা বলছেন, নিপাহ ও জলাতঙ্কের ভাইরাস ঠেকানোর আরেকটি উপায় হতে পারে বাদুড়কে টিকা দেওয়া। কিন্তু বাদুড় গুহাবাসী। থাকেও দলবদ্ধভাবে। লাখ লাখ বাদুড়কে টিকা দেওয়া অসম্ভব। এই সমস্যা সমাধানে মশাকে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার অংশ হিসেবে চীনা গবেষকদল ‘এডিস ইজিপ্টি’ মশাকে এমন রক্ত পান করিয়েছেন, যাতে নিপাহ কিংবা জলাতঙ্ক ভাইরাসের টিকা মেশানো ছিল। রক্তপানের পর মশার লালাগ্রন্থিতে পৌঁছায় সেই টিকা। এরপর মশাগুলো বাদুড়কে কামড়ালে কিংবা বাদুড় সেই মশাকে খেয়ে ফেললে তাদের শরীরে টিকা পৌঁছে যায়। গবেষণাগারে দেখা গেছে, এই ‘টিকাবাহী’ মশার সংস্পর্শে আসা ইঁদুর ও বাদুড়ের শরীরে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

একইভাবে নিপাহ ভাইরাসের ক্ষেত্রেও ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। বেইজিংয়ের চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ভাইরোলজিস্ট আইহুয়া জেং বলেন, বড় গবেষণাগারে বাদুড়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তারপরও একই পর্যায়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া বাদুড়েরা নিপাহ ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত ছিল।

কিন্তু গবেষণায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ফলখেকো বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাটদের নিয়ে। কারণ, তারা মশা খায় না। তাদের জন্য বিজ্ঞানীরা টিকার মিশ্রণ মেশানো বিশেষ ‘স্যালাইন ড্রিঙ্কিং স্টেশন’ বা পানির পাত্র তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিতে টিকা গ্রহণেও বাদুড়ের শরীরে আশাব্যঞ্জক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা গেছে।

এই অভাবনীয় কৌশল নিয়ে বিজ্ঞানীদের একাংশ বেশ চিন্তিত। ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ বার্ট নোলস মনে করেন, পানীয়র মাধ্যমে টিকা দেওয়া নিরাপদ হলেও মশা ব্যবহারের ঝুঁকি অনেক। তাঁর মতে, ‘মশা কাকে কামড়াবে তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এমনও হতে পারে যে টিকা নিতে অনিচ্ছুক কোনো মানুষের গায়েও সেই মশা বসে টিকা দিয়ে দিল!’

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ড্যানিয়েল অ্যান্ডারসন বলেন, বন্য বাদুড়েরা আগে থেকেই নানা ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে। গবেষণাগারে সুস্থ বাদুড়ের ওপর টিকা কাজ করলেও প্রাকৃতিকভাবে আক্রান্ত বাদুড়ের শরীরে তা কতটা কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বাদুড়ের দেড় হাজারের বেশি প্রজাতি রয়েছে। তাই প্রতিটি প্রজাতির জন্য আলাদা কৌশলের প্রয়োজন হতে পারে।

গবেষক আইহুয়া জেং স্বীকার করেছেন, এখনই এই পদ্ধতি বন্য পরিবেশে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তারা পরীক্ষা করছেন কীভাবে গবাদিপশুর শরীরে বাদুড় থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। সরকারি অনুমোদন এবং কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার পরই হয়তো কোনো একদিন মশার মাধ্যমে মহামারি রুখে দেওয়ার স্বপ্ন সত্যি হবে।

ছারপোকা নির্মূলের সহজ সমাধান আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা

চাঁদের বুকে নেমে কী কথা বলেছিলেন আর্মস্ট্রংরা

বাংলাদেশে নিপাহর মতোই বাদুড়বাহিত আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাসের সন্ধান

১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে বাসযোগ্য নতুন গ্রহের সন্ধান, পৃথিবীর চেয়ে শীত বেশি

উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস সরাসরি দেখা যাবে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

ভুলে যাওয়া যে কারণে উপকারী, ব্যাখ্যা দিলেন স্নায়ুবিদেরা

পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বেরোচ্ছে সোনা—২০২৫ সালে আরও যা জানা গেল

ফ্রান্সে সমুদ্রতলে কিংবদন্তির শহর, ৭০০০ বছর আগের বিশাল প্রাচীরের সন্ধান

কৈশোর থামে বত্রিশে, বার্ধক্যের শুরু ছেষট্টির পর—চিহ্নিত হলো মস্তিষ্কের ৫ পর্যায়

প্রাণীদের প্রথম চুম্বন ২ কোটি ১০ লাখ বছর পুরোনো