জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘বিএনপির অনেক বড় বড় নেতা গোপন মিটিংয়ে বলে যে জামায়াতকে সাইজ করে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে মাঠে না নামালে হবে না। যদি সাহস থাকে রাজপথে আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করেন। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেন।’
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে জাতীয় যুবশক্তির কার্যালয়ে ‘জাতীয় বাজেটে তারুণ্যের অংশীদারিত্ব: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির এ মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, নির্বাচন কমিশন যে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেছে, তারা যদি আবারও কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায়, তার জবাব আমরা রাজপথে দেব।
বাজেট সম্পর্কে নাসীরুদ্দীন বলেন, সরকার তরুণদের পেছনে বাজেট দিতে চায় না। সরকার চায় তরুণেরা গাড়ির পেছনে ঘুরুক। যদি দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়ে যায়, তাহলে মিছিলে যাওয়ার লোক তো পাবে না। এই সরকার যদি তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা করতে না পারে, তাহলে তারা সমাজের জন্য বোঝা হয়ে যাবে।
পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগ যে কারণে বর্জিত হয়েছিল, সেটা বিএনপির ক্ষেত্রেও হতে পারে। কারণ আওয়ামী লীগ যে সিস্টেমে চলছিল, সেটা তরুণেরা গ্রহণ করেনি। সুতরাং এই প্রজন্মকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তাদের ব্যবহার করতে হবে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকেরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের করের বোঝা বহন করছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন খাতে নিয়মিত কর পরিশোধ করা হলেও সেই অনুপাতে নাগরিক সেবার উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে সড়ক অবকাঠামো ও যানজট নিরসনে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। যদিও এসব খাতের উন্নয়নের জন্যই জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করা হয়।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একদিকে প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ কমানোর প্রচার করছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, যার প্রভাব কৃষি থেকে শিল্প—সব খাতেই পড়বে। ফলে দ্রব্যমূল্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন—জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি ও যুবশক্তির নেতা–কর্মীরা।