ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার বিচারের প্রশ্নে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেসবুকে নাহিদ লেখেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান ভাই হত্যার বিচারের প্রশ্নে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত অপেশাদারির পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের যৌক্তিক সব দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও যুক্ত করেন নাহিদ। আজ সকালে অনুষ্ঠিত ওই জনসভায় তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদির বিচারের প্রশ্নে আমরা এক বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে দেখেছি, যমুনার সামনে ওসমান হাদি ভাইয়ের পরিবার অবস্থান নিয়েছিল বিচারের জন্য। অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা, এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।’
এদিন বিকেলে সাতারকুল এলাকায় গণসংযোগ করেন নাহিদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করব, সেই দিন নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখে। যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা না রাখে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকবে না। বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। আমরা কেউই সেটা চাই না।’
নাম উল্লেখ না করে বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ বলেন, ‘তারা বলতেছে যে সরকারে আসলে ফ্যামিলি কার্ড দেবে। কিন্তু তারা অলরেডি এখন থেকে এই কার্ডের বিনিময়ে বিভিন্ন খাবার সামগ্রী গোপনে দিচ্ছে, যেটা নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন। আপনি কোনো ধরনের বস্তু সামগ্রী দিতে পারেন না। এই টাকার উৎসটা কোথায় এটাও জনগণ জানতে চায়।’