বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
দুজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার বাদী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের গ্রেপ্তার দেখান। পরে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট জিয়াউল হক নামের একজন আইনজীবী বাদী হয়ে আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি করেছিলেন। অপর যাঁকে আসামি করা হয় তিনি হলেন সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধী’ বলেন। এর আগে ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে বিচারপতি মানিক বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী।
এর আগে ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁরা জিয়া পরিবারকে নিয়েও বিভিন্ন সময় কটূক্তি করেন।
মেনন ও মানিক শুনানির সময় কাঠগড়ায় ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মেনন ও মানিক জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে কটূক্তি করতেন। আল্লাহ পাক এখন তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমানকে সম্মানিত করেছেন।
আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, এ মামলার অন্য আসামি হাসানুল হক ইনুও ক্ষমতায় থাকাকালে একইভাবে কটূক্তি করতেন। শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একজন দাম্ভিক ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছেন। শামসুদ্দিন মানিককে আল্লাহ পাক লাঞ্ছনার সঙ্গে এ আদালতে উপস্থিত করেছেন। এ সময় মেনন বিচারপতি মানিকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীও হাসেন।
উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মেনন ও মানিককে বিভিন্ন সময়ে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাঁদের বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দফায় দফায় রিমান্ডেও নেওয়া হয়।