সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার জায়গা থেকে সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঁচটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমরা যেন মিলেমিশে সংসদে যেভাবে কথা বলি, বাইরেও সেটা বজায় রাখতে পারি।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ এবং বাইরে আপনাদের মধ্যে কিন্তু কিছুটা হলেও পার্থক্য আছে, প্রকৃতপক্ষে এই পার্থক্যটা থাকা উচিত না। কারণ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম আমাদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে করতে হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হাসিনার কাছে আমরা মাথা নত করি নাই। সবাই নতুনভাবে দেশটাকে গড়ব—এটাই তো আমাদের কাছে সাধারণ মানুষের আশা-প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশার জায়গা থেকে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই লেখার উদ্দেশ্য তিনি কারাজীবনে কী রকম জীবন যাপন করেছেন, সেটা নয়; লেখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—এর মধ্য দিয়ে যাঁরা আমাদের নতুন প্রজন্ম—যাঁরা স্বৈরাচারের অত্যাচার-জুলুম দেখার সুযোগ পাননি, ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যাচার-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হননি—তাঁরা এর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।’
এ টি এম আজহার আরও বলেন, ‘সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ রকম আমাদের অত্যাচার-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হতেই হবে। এতে জাতি সাহসী হবে, যুবকেরা সাহসী হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার শক্তি পাবে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের আজহার ভাই যখন বেঁচে এসে পার্লামেন্টে কথা বলতে পারছেন, বিএনপির আরেক নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, তিনিও কিন্তু ফাঁসির দণ্ডে কারাগারে ছিলেন, তিনিও মুক্তি পেয়ে এমপি হয়েছেন। আবদুস সালাম পিন্টুসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় তিনজন এখন পার্লামেন্টে। এটা বিরাট ব্যাপার। পৃথিবীর কোনো দেশের পার্লামেন্টে এ রকম নির্যাতিতদের বৈচিত্র্যময় সমাবেশ, যেটা মাননীয় স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার পার্লামেন্ট চলার মাঝে মাঝে এই স্বীকৃতিগুলো দেন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব, অত্যাচারের যে কালো রাত আমরা পার করেছি, জুলুমের যে কালো অধ্যায় আমরা পার করেছি... জাতির সামনের দিনগুলোতে এই কালো দিন যেন আর ফিরে না আসে, সেই লক্ষ্যেই যেন আমরা একটা জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে পথ চলতে পারি।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।