জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছায়া বাজেট কমিটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ছায়া বাজেট প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই বাজেটে ১২টি প্রধান খাতে বিভক্ত করে মোট ৭১টি ‘সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য’ নীতির প্রস্তাব করেছে এনসিপি।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবগুলো গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ছায়া বাজেটে সামাজিক খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সরকারি ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে দলটি।
সাধারণ করমুক্ত সীমা সাড়ে চার লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের করমুক্ত সীমা ৪ লাখ ৭৫ হাজার ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া জাকাতকে আয়কর রিবেট (ছাড়) হিসেবে অন্তর্ভুক্তি, প্রগতিশীল উত্তরাধিকার কর চালু, আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাঁচ বছর ভ্যাটমুক্ত করার আইনি গ্যারান্টির প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নজরদারিতে রাখব, আগামী বাজেটের যে অর্থ বরাদ্দ হবে, প্রতিটি পয়সা যেন জনগণের কাজেই ব্যবহৃত হয়। পরিসংখ্যাননির্ভর নামসর্বস্ব কোনো বাজেট আর আমরা দেখতে চাই না।’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রতিবছর ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। তিনি বলেন, ‘সে অর্থ অন্যান্য সোশ্যাল সেফটি নেটস (সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি) থেকে কাটা হবে কি না? যদি কাটা না হয়, তাহলে আগের সোশ্যাল সেফটি নেটসের আওতা বিদ্যমান রেখে কীভাবে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা প্রতিবছর সোর্সিং (সংস্থান) করা হবে, সেই প্রশ্নগুলো কিন্তু আমাদের সামনে আসছে।’
অনুষ্ঠানে এনসিপির ৭১ দফা বাজেট ভাবনা তুলে ধরেন দলের ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ এবং ছায়া বাজেট কমিটির উপপ্রধান আবদুল্লাহ আল ফয়সাল। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ।