বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ায় নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ প্রদর্শন করেছে।
আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাঁকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তিনি ভারত সরকারের এমন কূটনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
পরওয়ার বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত সাড়ে ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, খুন ও গুম চালিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, এই গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত ও ৩০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সেই আহ্বান উপেক্ষা করে পলাতক শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার মূলত বাংলাদেশের পরিবর্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তিও উপেক্ষা করা হচ্ছে। ভারত সরকার তার অবস্থান সংশোধন করে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পরও শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে না পারায় তিনি পলাতক থেকেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁকে দেশে ফেরত আনতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান পরওয়ার। তিনি দাবি জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে। সরকার যদি কূটনৈতিক শৈথিল্য প্রদর্শন করে, তাহলে জনগণের কাঠগড়ায় সরকারকে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।