হোম > রাজনীতি

ছয়জন এমপি পেয়েও শঙ্কায় এনসিপি

অর্চি হক, ঢাকা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল ঘোষণার পর নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)। ছয় আসনে জয় নিয়ে প্রথমবার জাতীয় সংসদে যাওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে তাদের ঘিরে ধরেছে নিরাপত্তার শঙ্কা।

এনসিপির অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দলের অনেক নেতা-কর্মী। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন গতকাল শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা ছয়জন সংসদ সদস্য পাচ্ছি, এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ আমাদের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা।’

শুধু পঞ্চগড়-১ আসনে ৩০টির বেশি জায়গায় এনসিপির নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এই আসনে ভোট করে পরাজিত হয়েছেন তিনি। ভোটের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘এখনো পর্যন্ত পঞ্চগড়-১ আসনে প্রায় ৩০+ জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর, তাদের বাড়িঘরে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে, হুমকি দিয়েছে। অনেকে পালিয়ে আছে।’

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অংশ হয়ে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এর মধ্যে ছয় আসনে জয় পেয়েছেন এনসিপির নেতারা। তাঁরা হলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে, দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনে, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ আসনে, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মোজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ আসনে এবং যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে।

অন্যদিকে আলোচিত প্রার্থী হলেও জয় পাননি এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

সারা দেশে যেসব আসনে এনসিপি হেরে গেছে, সেখানে তাদের নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, তাঁদের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর এবং পরিবার হুমকির সম্মুখীন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি জোটের যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আসিফ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের শুরুটাই যদি বিরোধী দল ও মতের মানুষদের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে হয়, তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক হবে।’

অন্যদিকে সারজিস আলম বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘৪৮% মানুষকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি যদি রাজনীতি করতে চায়, তাহলে এর মূল্য তাদের চুকাতে হবে।’

এনসিপির নেতারা জানান, দলের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছেন। প্রয়োজনে কয়েক দিনের মধ্যে নতুন করে আন্দোলনে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে “স্ট্রং পজিশন” নেওয়া হবে।’

নির্বাচনের ফল নিয়ে সন্তুষ্টির পাশাপাশি অভিযোগও আছে

এনসিপির নেতারা জানান, ছয় আসনে জয়কে তাঁরা খুবই ইতিবাচক মনে করছেন। তাঁদের মতে, ৫ আগস্টের পর নতুন ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এসব তরুণ প্রার্থী ‘সংযোগভিত্তিক’ রাজনীতি করেছেন। ফলাফল তারই প্রতিফলন। সংসদে তাঁদের উপস্থিতি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আত্মবিশ্বাসী তাঁরা। তবে কয়েকটি আসনে ‘ফলাফল কারচুপি’ করে তাঁদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

মনিরা শারমিন বলেন, ‘দেড় বছর ধরে আমাদের নেতা-কর্মীরা মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে কাজ করেছেন। তাঁরা সেই ফল পেয়েছেন। তবে ঢাকা-৮সহ কয়েকটি আসনে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে কারচুপি করে। ফলাফলে প্রভাব বিস্তার না করা হলে আমরা ১২-১৫টি আসনে জয় পেতাম।’

অভিজ্ঞতা আর পরিচিতি যাঁদের কাজে এল না

ডাকসু থেকে সংসদে নুরুল ও আখতার

জাতীয় পার্টি: টানা তিনবারের বিরোধী দল জায়গা পেল না সংসদে

দমন-পীড়ন চলতে থাকলে রাজপথে কর্মসূচি: আসিফ মাহমুদ

তারেক রহমান, এক রাজনীতিকের পুনর্জন্মের গল্প

বিরোধীদলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের

নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে কারচুপি হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

ভোট গ্রহণটা যেভাবে হয়েছে, গণনাটা তার সম্পূর্ণ উল্টোভাবে হয়েছে: মামুনুল হক

আমাদের বাধ্য করা হলে রাজপথে নামব: জামায়াত আমির

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন লুৎফুজ্জামান বাবর, এ টি এম আজহার