চলতি বছরই দলের জাতীয় কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ তিন অঙ্গসংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমন উদ্যোগ আশা-উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে সংগঠনগুলোতে। অবশ্য এসব নতুন কমিটি ঘোষণার দিন এখনো সুনির্দিষ্ট হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান। গতকাল সোমবার তিনি বলেন, নতুন করে দেখা হচ্ছে। সাংগঠনিক পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ কমিটিগুলো ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
বিএনপির সূত্র বলেছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টির কেন্দ্রীয় কমিটিরই মেয়াদ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় এসব সংগঠনের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ত্যাগী, যোগ্য ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় তরুণ নেতাদের সামনে এনে সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র আরও বলেছে, কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের নেতৃত্ব পুনর্গঠন নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকা একাধিকবার পর্যালোচনা করা হয়েছে। সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা ও দলের প্রতি আনুগত্য—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিটির খসড়া করা হয়েছে। এখন শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা। তাঁর অনুমোদন পেলেই যেকোনো দিন নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
বিএনপির সূত্র জানায়, তারেক রহমান গত এপ্রিল থেকে একাধিক বৈঠকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি মামলা ও নির্যাতনের শিকার এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকাকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। পদায়নে তদবির ও লবিংয়ের বিষয়েও কড়াকড়ি থাকছে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ পদে সাবেক ছাত্রনেতাসহ বর্তমান ও সাবেক একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান কমিটির অনেক শীর্ষ নেতার বাদ পড়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন বঞ্চিত নেতাদের পদ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ৯ মে বিএনপি ও এই তিন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। বিএনপি ও তিন সংগঠনের একাধিক নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, মতবিনিময়কালে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কথা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিন সংগঠনের কমিটি গঠনের কথাও জোর দিয়ে বলেছেন তিনি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা মনে করছেন, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও ছাত্রদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে যুবদল ও ছাত্রদলের কার্যকর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁরা বলছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি ত্যাগী ও তরুণ নেতাদেরও মূল্যায়ন করা হবে।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার আভাস পেয়ে সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠন তিনটির কয়েকজন নেতা বলেন, আগামী দুই মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। এর মধ্যে সংগঠন গোছাতে না পারলে কোনো কাজই ঠিকভাবে করা সম্ভব হবে না। তাই তাঁরা আশা করছেন, শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন, কমিটি ঘোষণায় কিছু বিলম্বও হতে পারে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে বা পরে এসব কমিটি ঘোষণা হবে কি না, জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। তাঁর ওপরই সবটা নির্ভর করছে।