নতুন রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) তাদের ৯০ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। নবঘোষিত কমিটিতে নাঈম আহমাদকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমকে সদস্যসচিব এবং মো. আহছান উল্লাহকে প্রধান সংগঠক করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
কেন্দ্রীয় কমিটিতে নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন রাহাতকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, নূরা জেরিন ও রাকিব হাসানকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব এবং আবুল বাশারকে যুগ্ম প্রধান সংগঠক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিবসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলের অবস্থান তুলে ধরে নাঈম আহমাদ বলেন, জেডিপি ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল চায়। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিষদ গঠন, সংবিধান বাতিল, সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জেডিপি স্পষ্টভাবে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে জেডিপির অবস্থান তুলে ধরে নাঈম বলেন, শুধু সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন আনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। উচ্চ আদালতের স্বীকৃত ‘মৌলিক কাঠামো’ তত্ত্বের কারণে সংসদে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনও পরে বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর সমাধান হিসেবে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নই অধিক যুক্তিসংগত।
জেডিপি জানায়, সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন এনে ‘সমাজতন্ত্র’র পরিবর্তে ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ এবং ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ পন্থা’ বা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জনমত গড়ে তুলবে। দলটি ক্ষমতায় গেলে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রতিশ্রুতির কথা জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের আগামী এক মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এপ্রিলজুড়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান, জুলাই গণহত্যা ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গণসংযোগ এবং আগামী মে মাসে ঢাকায় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন আয়োজন।
এর আগে, গত ১৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আত্মপ্রকাশ করে জেডিপি। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমাদ দলের নাম ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে জনগণের বিকল্প রাজনৈতিক বলয়ের প্রতি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। নতুন দলের রাজনৈতিক অবস্থান হবে মধ্যপন্থা থেকে মধ্য-ডানপন্থা।