অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। নতুন সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ আয়োজিত ‘নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচিত সরকারের কাছে তিনি এ দাবি জানান।
নির্বাচিত সরকার মানেই গণতান্ত্রিক সরকার না বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে শেখ হাসিনাও, জার্মানিতে হিটলার, ইতালির মুসোলিনি। নির্বাচিত সরকার মানেই গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক সরকার না। নির্বাচিত সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জনগণের ক্ষমতায়ন কতটুকু করছে, সেটার ওপর নির্ভর করবে।’
গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে ‘দিনবদলের কর্মসূচি’ বা ‘৩১ দফা’র মতো গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় গিয়ে তা রক্ষা করে না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহি থাকে না। বর্তমান সরকারের সামনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, দল ও সরকার এক হয়ে গেলে মহাবিপদ ঘনিয়ে আসবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘তাঁর সামনে একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
সাইফুল হক বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত সকল অস্বচ্ছ আন্তর্জাতিক চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। যেগুলো দেশের নিরাপত্তা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী, সেগুলোকে স্থগিত করা বা বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের সদস্যসচিব বাবর চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর। সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান প্রমুখ।