বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে ফরমায়েশি, সরকারপ্রধানের হিংসা ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশজুড়ে যখন আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে বিভ্রান্ত করতে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের এটি একটি কুটচাল। এক দফার আন্দোলনকে নেতৃত্ব শূন্য করতে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে প্রতিহিংসা মেটানো হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের সাজা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণ এই রায় মানে না। জনগণ বিচারের নামে এই প্রহসন, এই ফরমায়েশি রায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এটা একেবারে পরিষ্কার যে সরকার তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়া, আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা বলতে চাই, এসব করে বিএনপির চলমান আন্দোলন দমানো যাবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে মামলার অভিযোগে সম্পদের যেসব বিবরণী দাখিল করা হয়েছে—তা মিথ্যা, কাল্পনিক, সাজানো ও ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। রায়ের প্রতিবাদে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি তো একটাই। এই সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি। এক দফা দাবির মধ্যেই সবকিছু আছে। এরই মধ্যে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে নেতা-কর্মীরা।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচি
তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল যৌথভাবে সারা দেশের মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে। ৪ আগস্ট রায়ের প্রতিবাদে ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ) বিএনপি। এদিন বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।