ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশকে অস্থিতিশীল করার এটি সুদূরপ্রসারী মাস্টার প্ল্যান। সরকার আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে তৎপরতা দেখাতে পারছে না বলেই খুন-জখমের মতো রক্তাক্ত পরিস্থিতির অবসান হচ্ছে না।
আজ শনিবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ অভিযোগ করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে দলের কার্যালয়ের সামনে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সেখান থেকে তাঁকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে আজ বিকেল ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির একজন বলিষ্ঠ সৈনিক হওয়ার কারণেই হাসান মোল্লাকে টার্গেট করা হয়েছিল; যার ফলশ্রুতিতে দুষ্কৃতকারীরা দুদিন আগে তাঁকে গুলি করে এবং আজকে তাঁর মৃত্যু হয়। এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের দমন করে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক দূর করতে হবে। নইলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হবে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা বসে নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ধারাবাহিকভাবে তারা (চক্রান্তকারীরা) হিংস্র সহিংসতা চালিয়ে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়। কিন্তু সরকার চক্রান্তকারীদের উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে একের পর এক গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক নেতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। তাই এ মুহূর্তে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বৃত্তদের রুখে দিতে হবে।
বিবৃতিতে হাসান মোল্লার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপির মহাসচিব এবং তাঁকে হত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে নিহতের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মির্জা ফখরুল।