সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়—এমন কোনো কাজ বিএনপি করছে না বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের আয়োজনে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেলিমা রহমান বলেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন সামনের নির্বাচন। আমরা চাচ্ছি, দেশটা যেন একটা সুন্দরভাবে গড়ে উঠে এবং সেটার জন্য দরকার আজকে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেটাও আমরা চাচ্ছি। যে কারণে দেখবেন আমাদের তরফ থেকে কোনোরকম নির্বাচনী আচরণবিধিতে যাতে কোনো লঙ্ঘন হয় সেগুলো কিন্তু আমরা করছি না, কিছুই করছি না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা চাই জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই হবে প্রকৃত জবাবদিহিমূলক সরকারের একজন প্রতিনিধি। সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি কেউ কেউ উপহার দিচ্ছে, কেউ কেউ নানাভাবে, বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে। এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই উপহার দিয়ে মানুষকে লোভ দেখিয়ে, লালসা দেখানো আর চলবে না। মানুষ এখন সচেতন। মানুষ বুঝতে পারে।’
খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক লড়াই ও বিভিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস টেনে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন খালেদা জিয়া। একটা মহাকালের পতন হয়েছে। তিনি তাঁর জীবনের সংগ্রাম শেষ করে শেষ পর্যন্ত তিনি লড়াই করে যুদ্ধে জয়ী হয়ে প্রচণ্ড সম্মান এবং মানুষের ভালোবাসা নিয়ে এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে।’
সেলিমা রহমান খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, ‘যিনি সব সময় বাংলাদেশের মানুষকে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, কথা বলার স্বাধীনতা ও সাহস সবকিছুর পেছনে প্রেরণা জোগাতেন—সেই মাদার অব ডেমোক্রেসি নক্ষত্রটা হঠাৎ করে বাংলাদেশের আকাশ থেকে চলে গেছে। সেই নক্ষত্রের মধ্য দিয়ে আমরা সাহস পাচ্ছি, আমরা প্রেরণা পাচ্ছি। আমাদের মনের ভেতরে আমাদের অনুভবে, আমাদের চিন্তায় আমাদের চেতনায় সকল সময় সেই নক্ষত্রটা জলজল করে জ্বলছে।’
সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে পারছি। আগামী দিনে বাংলাদেশে যে নির্বাচন আসছে, সে নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। আজ তাঁর (খালেদা জিয়া) যোগ্য উত্তরাধিকার তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে, সেই উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রেরণায় আমরা এখনো সকলে একত্রিত হয়েছি। এর পেছনে অবশ্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার চিন্তা চেতনা আমাদের মধ্যে দিয়ে গেছেন তার অবদান আছে। তেমনি তাঁরই যোগ্য উত্তরাধিকার আমাদের চেয়ারম্যান, যিনি তাঁর নেতৃত্ব দিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষকে, বিশেষ করে—বিএনপিকে এক করতে পেরেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাইতাম, খালেদা জিয়া আরও কিছুদিন বেঁচে থাকুক। অসুস্থ হলেও উনি বেঁচে থাকুক। উনি আমাদের আরও কিছু শক্তি জোগান। কিন্তু উনি চলে গেছেন। আমরা এখন শোকাহত। আমরা চেষ্টা করছি এই শোককে এখন শক্তিতে রূপান্তরিত করার। সেই শক্তি আপনারা সবাই, সেই শক্তি আমরা সবাই, সেই শক্তি বাংলাদেশের জনগণ।’
জাতীয়তাবাদী নবীন দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নবীন দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রমুখ।