জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘বাজেট যেন দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার না হয় এবং এ জন্য সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে হবে।’ আজ রোববার রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিকস রিপোর্টার্স ফোরাম অডিটোরিয়ামে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’—শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন তিনি।
বাজেটের আয়তন বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের, জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি—মন্তব্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সেই বাজেট ক্রমেই বাড়তে বাড়তে আসন্ন বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং কখনো কখনো দেখা গেছে বাজেট ছিল লুটপাটের হাতিয়ার।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। আয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি কমানো ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য নৈতিকতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ালে জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বহুগুণ রিটার্ন দেবে।’ এ কারণেই ইউনেসকো উন্নত দেশগুলোকে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তেলা মাথায় তেল দেওয়া বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট হতে হবে সর্বজনীন। স্বাধীনতা পরবর্তী যতগুলো বাজেট হয়েছে সবগুলো ছিল ঋণ নির্ভর বাজেট। ঋণ নির্ভর বাজেটে অর্থনীতির গতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি।
আযাদ আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাজেট চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকবে। ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে অর্থনীতির চাকা সচল করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের পরিচালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম খবিরুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী প্রমুখ।