রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে থাকতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) সভাপতি ও মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রাজা। তিনি বলেছেন, ‘সাংবাদিকেরা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দূর করতে না পারলে আমরা এক হতে পারব না।’
আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘আমাদের সংঘবদ্ধতা বা এক হওয়া অবশ্যই দরকার। কিন্তু আমাদের ঐক্যের পক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে পলিটিক্যাল অ্যাফিলিয়েশন (রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা)। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা আমরা দূর করতে না পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এক হতে পারব না।’
সাংবাদিকেরা কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্যবদ্ধ হলেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে কিছুদিনের মধ্যেই বিভক্ত হয়ে যান বলে জানান এই সাংবাদিক নেতা। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে রেজওয়ানুল হক রাজা বলেন, ‘সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পরে আমরা দেখেছিলাম। ওই হত্যাকাণ্ডের পরে ধর্ম-নির্বিশেষে সবাই আমরা একমত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই ঐক্য পরে কেটে যায়।’
বিজেসি সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা নিজেদের নিরপেক্ষ বলে দাবি করি। কিন্তু আমাদের ইউনিয়ন হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত একাধিক ইউনিয়ন। আমাদের সংগঠনের নেতাদের একেকজনের একেক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।’
রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘কোনো সরকারই স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া দেখতে চায় না। দুঃখজনক হচ্ছে যে বর্তমান সরকার, যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা বলেছে, তারাও একই কাজ করছে।’
বিজেসি সভাপতি আরও বলেন, ‘যখন কোনো রাজনৈতিক দল বিরোধী দলে থাকে, তখন তারা গণমাধ্যমকে বন্ধু বলে মনে করে। তারা যখন ক্ষমতায় যায়, তখন গণমাধ্যম তাদের কাছে শত্রু হয়ে যায়। এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।’
আজ শনিবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে গণমাধ্যম সম্মিলন শুরু হয়। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করেছে।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকেরা এই সম্মিলনে অংশ নিয়েছেন।
দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার জন্য একসঙ্গে দাঁড়ানোর এই আয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও কলাম লেখকেরাও এসেছেন। গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাংবাদিকেরা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
বেলা দেড়টা পর্যন্ত এই সম্মিলন চলবে।