গণভোট হলো জুলাই সনদের সর্বোচ্চ বৈধতা এবং বাস্তবায়ন করতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, গণভোট হলো জুলাই সনদের সর্বোচ্চ বৈধতা। মানুষ যখন ভোট দিয়েছে, দুটা বিষয়ে ভোট দিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে জনগণ এই আদেশের পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন, বৈধ করেছেন। জনগণ যেহেতু এই আদেশের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাই এটি সংবিধানের যেকোনো অংশের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বদিউল আলম মজুমদার এসব মন্তব্য করেন। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম ও ভয়েস ফর রিফর্মের যৌথ উদ্যোগে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করা হয়।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রপতির জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার আদেশ’-এর ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আদেশের আট অনুচ্ছেদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের কথাও উল্লেখ আছে, যা জনগণ গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করেছেন। সংবিধান হলো জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি। তাই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি যে রায় দিয়েছেন, তা পালন করা বাধ্যতামূলক।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে যে ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য গণভোট করা হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক দলগুলো সুস্পষ্টভাবে লিখিত অঙ্গীকার করেছে বলে জানিয়েছেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, জুলাই সনদে যা কিছু আছে, তারা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে। শুধু তাই নয়, তারা এই জুলাই সনদটাকে সংবিধানের অংশ করবে। আর দ্বিতীয়ত, তারা কোনো আদালতে এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না। এটা সুস্পষ্ট লিখিত অঙ্গীকার তাদের।
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, সংবিধানের সাত অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংবিধান হলো একটা উইল অব দ্য পিপল (জনগণের ইচ্ছা)। আর এখানে গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি জনগণ তাঁদের ইচ্ছা (উইল) জানিয়ে দিয়েছেন।