মানহানি ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে করা দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগের হাতে বিশ্বজিৎ হত্যাকে কেন্দ্র করে বক্তব্য দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করেছিলেন এবি সিদ্দিকী নামের এক ব্যক্তি। ওই মামলায় ২০১৯ সালে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ ছাড়া ২০১৭ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই ব্যক্তি মানহানির মামলা করেছিলেন। দুই মামলাতেই হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন।
পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগের হাতে বিশ্বজিৎ হত্যাকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর আদালতে নালিশি মামলা করেন। এছাড়া ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা চাননি, চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ায় এ দেশের জনগণ যুদ্ধে নেমেছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিরীহ লোকজনকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলসহ ভালো ভালো লোককে গ্রেপ্তার, গুম এবং হত্যার অভিযোগ করেন তিনি। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে ২৫ জানুয়ারি এবি সিদ্দিকী মানহানির মামলা করেন।