শাহবাগে লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর হামলা এবং কুষ্টিয়ায় এক ‘পীর’ হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন অধ্যাপক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীসহ ৫৫ জন নাগরিক। তাঁরা এসব ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে তাঁরা এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ১০ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ‘আজাদী আন্দোলন’-এর আড়ালে একদল উগ্রপন্থী গোষ্ঠী শিল্পী, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ট্রান্স অধিকারকর্মীদের আড্ডায় হামলা চালায়। এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে সংগঠিত উসকানি ছিল বলে মনে করেন তাঁরা।
বিবৃতিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাধক শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, ১১ এপ্রিল ‘ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ’ তুলে একদল লোক মাজারে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং পরে ওই সাধককে হত্যা করে। ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ঘটেছে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ভূমিকা নেয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে মামলা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইনুন নাহার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ, অধিকারকর্মী মারজিয়া প্রভা প্রমুখ। তাঁরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, শাহবাগের হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, পুলিশ কেন নিষ্ক্রিয় ছিল, তা তদন্ত করা, ভিন্নমত ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।