যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বিতর্ক সভায় বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আরওয়া হানিন এলরায়েস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আজ মঙ্গলবার এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে সারজিসের উদ্দেশে বলা হয়, ‘আপনি বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে আপনি ২০২৪ সালের সরকারি চাকরির কোটাবিরোধী আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন, যা পরে দেশব্যাপী গণ-আন্দোলনের রূপ নেয় এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনে গড়ায়। এই সময়ে আপনার নেতৃত্ব, অন্যান্য ছাত্রনেতার সঙ্গে মিলিতভাবে, জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়; বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আন্দোলন তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে আপনার আটক হওয়ার ঘটনাটি। এটি আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও নেতৃত্বের ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘২০২৫ সাল থেকে আপনি জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাজনৈতিক সংগঠন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। আপনার পথচলা বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের উত্থানের প্রতিফলন- যা গড়ে উঠেছে আন্দোলন, স্থিতিশীলতা এবং সংস্কারের অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে।’
চিঠিতে জানানো হয়, এই বিতর্কে প্রশ্ন তোলা হবে- আধুনিক তরুণ আন্দোলনকারীরা কি সত্যিই রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, নাকি কেবল দেখাবার চেষ্টা করছে? এই বিতর্কে বিশ্বজুড়ে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, ডিজিটাল অ্যাক্টিভিজম এবং বাস্তব পরিবর্তনের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে ১৮ জুনের মধ্যে যেকোনো এক বৃহস্পতিবার এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। কোন তারিখে অংশগ্রহণ সম্ভব, তা জানাতে সারজিস আলমকে অনুরোধ জানিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন।
১৮২৩ সালে কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর মতপ্রকাশ নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেন। গত ২০০ বছরের ইতিহাসে দালাই লামা, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহ্যগুলোর একটি হলো বিতর্ক, যেখানে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।