ঢাকা: হেফাজতে ইসলাম শান্তি চায়, কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। সংগঠনটির নেতাদের এমন বক্তব্যে আস্থা নেই সরকারের। ২০১৩ সালের সহিংস ঘটনার পরে যখন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তখন তাঁরা একই কথা বলেছিল। কিন্তু পরে কথা রাখেনি।
এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের অন্তত দুজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাঁরা বলছেন, ২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সহিংস ঘটনার পরে সংগঠনটির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করেন। পরে নানান কারণে তাঁদের ছাড়ও দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা কিছু দিন চুপ থাকলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যাননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকারের কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে কোনো মহল দেখা করতে চাইলে, দেখা করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি দেখা করেছেন। কিন্তু তাতে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ব্যত্যয় হবে না। তারা যদি বলত এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তারা ক্ষমা চায়, তাহলে একটা কথা হতো। কিন্তু তারা বৈঠকের পরেও মিথ্যাচার করছে।
২০১২ সালের নারীনীতিবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মাঠ গরম করে হেফাজতে ইসলাম। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক তাণ্ডবের অভিযোগ ওঠে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। সেই সময় বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও সমর্থন দেয় তাদের। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিরুদ্ধে সংগঠনটির নেতারা প্রচার চালান। সেটা ভোটে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়। সর্বশেষ গত মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে দেশব্যাপী সহিংস প্রতিবাদ জানায় সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। এসব সহিংসতায় সরকারি হিসাবে ১৭ জন নিহত হয়।
মামলা ও গ্রেপ্তারের পরে নড়েচড়ে বসে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী রোববার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, হেফাজত শান্তি চায়, কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে নামানো হেফাজতের উদ্দেশ্য নয়।