আগামী সরকারকে শেখ হাসিনার চেয়ে বড় ফ্যাসিস্ট বানানোর সব উদ্যোগ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেছেন, আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র আর কয়েকটা দল মিলে সংস্কারের সব সম্ভাবনা নষ্ট করে দিচ্ছে। এসবের মাধ্যমে আগামী সরকারকে হাসিনার চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হওয়ার সব সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
আজ বুধবার ‘বিভাজনের মাফিয়াতান্ত্রিক রাজনীতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকার তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজায় দলটির প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এস্টাবলিশমেন্ট ও তার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন দুই দলের মধ্যে নির্বাচনকে আটকে রাখছে। এর বাইরে ছোট দলগুলো এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যেন নির্বাচন করতে পারে, সেই ব্যবস্থা তারা করেছে। এর ফলাফল হলো, একাত্ম ও একটি উদার সমাজের পক্ষে ভোট দিতে চাইলে বিএনপির লুটপাট আর দখলবাজি মেনে নিতে হবে। আবার ইসলামি অনুভূতি থেকে কিংবা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিতে চাইলে আপনাকে জামায়াতে ইসলামীর গণহত্যা চেপে যেতে হবে। এ দুই ধারার বাইরে একাত্তরের পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে, চব্বিশ ও নব্বইয়ের পক্ষে ভোট দিতে চাইলে কোনো অপশন নির্বাচন কমিশন রাখেনি।’
সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য নির্বাচন করার আয়োজন করছে।
সভায় বক্তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন আদালতের রায় অমান্য করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নিবন্ধন দেয়নি। স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ক্ষেত্রে পুলিশ দিয়ে সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে মনোনয়ন বাতিল করার চেষ্টা চলছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থিতার মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আপিলসহ প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন হাসনাত কাইয়ূম। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, প্রয়োজনে মামলাও করা হবে বলে জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অহিংস আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আবুল বাশার, ব্রহ্মপুত্র রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।