বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। অবিলম্বে এই সংকট উত্তরণে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান মান্না।
বিবৃতিতে মান্না বলেন, ১৩ বছরের সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতি, অর্থপাচারের কারণে দেশ আজ এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে। ডলারের দাম এখন এক শ টাকা ছুঁই ছুঁই। ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসা বাড়ছে। ইতিমধ্যে কমে গেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। বিশেষজ্ঞরা রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলছেন।
অন্যদিকে গত এক বছরে আমদানি ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়েছে জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সরকার এবং সরকারি দল সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। গত এক বছরে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের বর্তমান রিজার্ভের প্রায় সমান। অর্থাৎ এভাবে চললে আগামী এক বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শূন্য হয়ে যাবে।
জ্বালানির সংকট মূলত সেখান থেকেই এবং এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে জানিয়ে মান্না বলেন, ‘লোডশেডিংকে জাদুঘরে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া সরকার এখন নিজেই লোডশেডিংয়ের পক্ষে সাফাই গাইছে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের ভেলকিবাজি দেখিয়ে সরকার এখন সারা দেশে দিনে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে; অথচ স্বৈরাচার সরকার এখনো উন্নয়নের ডামাডোল বাজাচ্ছে।’