দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় দফার লংমার্চের প্রস্তুতি জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
দেশের সর্বত্র দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, হাটবাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজির ধরন পরিবর্তন হয়নি, শুধু চাঁদাবাজদের পরিচয় ও দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে।
পরওয়ার বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুই ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অন্যটির গণরায় অস্বীকার করা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। সরকার আন্তরিক হলে আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে বিরোধী দলের সহযোগিতায় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার-সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে তৃতীয় দফার লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। তিনি বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর তৃতীয় দফা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লংমার্চ হবে। এটি আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় সবচেয়ে দীর্ঘ কর্মসূচি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আগামীকাল সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। ছয় শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় রওনা হবে। পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনার বাবরী চত্বর, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় ও ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে মোট ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতের এই নেতা জানান, ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো লংমার্চ সফল করতে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
লংমার্চের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯টি জেলার নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা এই লংমার্চে অংশ নেবেন। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। লংমার্চ সফল করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
ব্রিফিংয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।