জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) বারবার ফিরে আসবে না। ৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পর্ণ হবে ১২ তারিখ। জনগন সেদিন দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজ-ঋণখেলাপীদের লালকার্ড দেখাবে।’ আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যারা ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের যাতাকলে পিষ্ট ছিলাম, এর মধ্যে একটা অংশ মজলুম থেকে জালেম হয়ে উঠেছে। যে সকল অপকর্ম আওয়ামী লীগ করত, তারাও ৬ তারিখ সকাল থেকে সেসব অপকর্ম শুরু করেছে। আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যারা অপকর্ম শুরু করেছিল, তারা আর বন্ধ করে নি। আমরা তো এজন্য লড়াই করিনি, রক্ত দেইনি। আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’
তিনি বলেন, ‘একটি দল মাঝে মধ্যে বলে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন। ঋণ খেলাপীদের বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতি বন্ধ করবেন!’
জামায়াত আমির বলেন, ‘এ আসনে দুইজন প্রার্থী আছেন। দুইজনকেই আপনারা চেনেন। নাহিদ ইসলামের জন্ম এখানে, বেড়ে ওঠা এখানে। আমি মায়ের কাছে মাসির গল্প শোনাতে চাই না। আমার থেকে নাহিদকে আপনারা ভালো চেনেন। এটা বলতে চাই, ইনসাফের বাংলাদেশে জনগণের রায় এবং আল্লাহর মেহেরবানিতে যদি বিজয় অর্জিত হয়, সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে অবশ্যই আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন। আমরা হাতে হাতে ধরে কাজ করব।’
আবরার ফাহাদ ও শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘আবরার ফাহাদ, হাদী তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। আমরা সুযোগ পেলে, তোমরা যেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলে, তেমনি উদ্বীপ্ত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।’ তিনি বলেন, ‘এই জাতির ভাগ্য বদলের জন্য ৫টি বছর যথেষ্ট। আমরা কোন ভুল আশ্বাস দিব না। যা বলব তা জানপ্রাণ দিয়ে পালন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আমরা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদার হব ইনশাআল্লাহ।’
ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমির বলেন, ‘জুলাইয়ে যারা পাহারাদার ছিলেন ১২ তারিখ ও আপনারা পাহারাদার হবেন। আমাদের কাছে আপনাদের ১টা ভোট গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের কাছে ১টা আসন ও গুরুত্বপূর্ণ।’